সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৫

বিজ্ঞানের একটি যুগের সমাপ্তি। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম।

বিজ্ঞানের একটি যুগের সমাপ্তি। অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম।

লিখেছেন লিখেছেন রিদওয়ান কবির সবুজ ১৬ মার্চ, ২০১৩, ০৭:৫২:৫৫ সন্ধ্যা
তখনও হাই স্কুলের ছাত্র। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়েছিলাম যতটা না উৎসাহে তার চেয়ে বেশি হুজুগে। মেলার সমাপ্তির দিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক পুরুস্কার বিতরন করলেন। কাঁচা পাকা চুলের আকর্ষনিয় চেহেরা। সেই সঙ্গে অতি আকর্ষনিয় কন্ঠ। বড় বড় কথা না বলে সহজ সরল ভাষায় প্রসংসা আর উৎসাহ দিলেন কচি বিজ্ঞানীদের! সবচেয়ে সুন্দর লেগেছিল তার ভাষা । খাঁটি বাংলায় কিন্তু তথাকথিত পারিভাষিক শব্দ বিহীন তার বিজ্ঞান বিষয়ক সহজ-সরল বক্তৃতা। সেই দিনই প্রথম জেনে ছিলাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই অধ্যাপকের নাম। জামাল নজরুল ইসলাম। আস্তে আস্তে জানলাম আরো অনেক কিছু। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপনা ছেরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন এই কথাটা প্রথমে বিশ্বাস হয়নি। কিন্তু এইটাই ছিল সত্য।

২৪ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৯ সালে জন্ম নেন অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে মেট্রিক পাশ করে চলে যান তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানের মারির লরেন্স কলেজে। সেখান থেকে সিনিয়র কেমব্রিজ উত্তির্ন হয়ে আবার আসেন কলকাতার বিখ্যাত সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। বি.এসসি উত্তির্ন হয়ে এবার পারি দেন ইংল্যান্ড এ। কেমব্রিজের ট্রিনিট্রি কলেজ থেকে ফলিত গনিত বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে ১৯৬৪ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর প্রথম অধ্যাপনা শুরু করেন ইউনিভার্সিটি অফ মেরিল্যান্ড এ। এরপর যোগ দেন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ থিউরেটিকাল 

এস্ট্রোনমিতে। ১৯৮২ পর্যন্ত প্রধানত কেমব্রিজেই কর্মরত ছিলেন। এরমাঝে কিছুদিন ক্যালিফোর্নিয়া ইনসটিটিউট অফ টেকনলজি ও লন্ডন কিংস কলেজেও অধ্যাপনা করেন। আশির দশকের শুরুতে পারিবারিক কারনে দেশে ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালিন ভাইস চ্যান্সেলর ইতিহাসবিদ ডঃ আবদুল করিমের সহায়তায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদেন তিনি। বাকি জিবন কাটিয়ে দিয়েছেন এখানেই দেশের এবং দশের সেবা করে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে তার প্রতিষ্ঠিত ভৈাত ও গানিতিক বিজ্ঞান গবেষনা কেন্দ্র মূলত তার চেষ্টায় বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিক মানের গবেষনাগারে পরিনিত হয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানের পরিচালক হিসেবে দায়িত্বপালন শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে অবসর নিলেও আবার প্রফেসর এমেরিটাস হিসেবে যোগদেন তিনি। দেশের সমাজ ও শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার অবদান বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য।

ডক্টর জামাল নজরুল ইসলাম আজকেই ছেড়ে চলে গেছেন আমাদের মহান আল্লাহর সান্নিধ্যে। আমরা তার রুহএর মাগফিরাত কামনা করছি।

বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

হায় ফুটবলের উন্নতি।

সালাহউদ্দিন যখন বাফুফের সভাপতি নির্বাচিত হলেন তখন তখন বাংলাদেশের সকল ক্রিড়াপ্রেমি জনসাধারনই দল-মত নির্বিশেষে অত্যন্ত আনন্দিত হয়েছিল। কারন এর আগে সবসময় বাফুফের সভাপতি পদে যারা এসেছেন তারা সবাই ছিলেন নামমাত্র ক্রিড়া সংগঠক। রাজনৈতিক প্রভাব বজায় রাখা বা অন্যান্য স্বার্থে যারা ক্রিড়াঙ্গনের সাথে সামান্য সম্পর্ক বজায় রাখতেন। কিন্ত সালাউদ্দিন বাংলা দেশের ফুটবলের শ্রেষ্ঠ স্ট্রাইকার ছিলেন। খুব ছোটকালে দেখা তার খেলার বেশি কিছু মনে না থাকলেও জাতিয় দল এবং বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হিসেবে তার সাফল্য আমারা দেখেছি। ক্রিড়াপ্রেমি বাংলাদেশের জনগন ভেবেছিল ফুটবলের সেই সুদিন আবার ফিরে আসবে। যখন আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচ দেখার জন্য বেলা তিনটার মধ্যে দেশের সব শহরের রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে যেত। এখন অনেকে হয়তোবা আবাহনির নীল-হলুদ এবং মোহামেডানের সাদা-কালো পতাকা চিনেননা। কিন্তু তখন প্রিমিয়ার লিগ চলা কালে এখন যেমন বিম্বকাপের সময় আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল এর পতাকা উড়ে সেরকম আবাহনী-মোহামেডানের পতাকা উড়ত মোড়ে মোড়ে। নব্বই এর দশক থেকে শুরু হয় আমাদের ফুটবলের অধোগতি। সালাউদ্দিন,কায়সার,আসলাম,সাব্বির,রুমি,আলফাজ দের উত্তরসূরি হিসেবে সেই মানের কোন ফুটবলার আর আসেনি। যদিও এর মধ্যেই ২০০৩ এর সাফ ফুটবলের মত কয়েকটি সাফল্য এসেছে। কিন্তু জনপ্রিয়তার দিক দিয়ে ফুটবলের মান নেমে গেছ অনেক। ক্রিকেটের তুলনামুলক ভাল সাফল্য এবং ডিস এর কল্যানে আন্তর্জাতিক ফুটবল এর জনপ্রিয়তা আরো কমিয়ে দিয়েছে ফুটবলের জনপ্রিয়তা।
ফুটবলের এই পতন এর মধ্যেই আবার যুক্ত হয়েছে রাজনিতি এবং পাতানো খেলা। বাংলাদেশ লিগে সবসময় প্রিমিয়ার লিগের কয়েকটি দল এবং দেশের বিভাগিয় লিগগুলির সেরা দলগুলি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে ২০০৭ সাল থেকে। প্রথম তিনটি লিগে চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা আবাহনী। এবার হটাত করেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় ঢাকার প্রথম বিভাগ লিগ থেকে একটি দল কে সুযোগ দেয়ার। প্রায় ৪০ বছরের কাছাকাছি দেশের ক্রিড়াঙ্গনে মধ্যম সারির ক্লাব বলে পরিচিত ধানমন্ডি ক্লাব হঠাত করেই তার নাম পরিবর্তন করে হয়ে যায় "শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব"। আর এই নামের বদেীলতে রানারআপ হয়েও বাংলাদেশ লিগে খেলার যোগ্যতা অর্যন করে তারা। শেষ পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগ এবং আঞ্চলিক লিগের দলগুলিকে পরাজিত করে প্রথমবার খেলেই প্রফেশনাল লিগ চ্যাম্পিয়নশিপ অর্জন করে তারা। কিন্তু এই লিগে তাদের কোয়ালিফাই করা যেমন প্রশ্নবিদ্ধ তেনমি তার চ্যাম্পিয়নশিপও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে পাতানো খেলার অভিযোগে। বিশেষ করে রহমতগঞ্জ এর সাথে তাদের খেলাটি পাতানোর অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। রহমতগঞ্জ এদেশের ফুটবলের পরিচিত নাম। প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন না হলেও কয়েকবারই তৃত্বিয়-চতুর্থ স্থানে ছিল রহমতগঞ্জ। কিন্তু এভাবে তার একটি নতুন দলের কাছে সন্মান বিসর্জন ধেয়ার পিছনে কি ছিল? শুধুই টাকা, না তার সাথে আরো কিছু। এবারের বাংলাদেশ লিগের কয়েকটি খেলাই পাতানোর অভিযোগ থাকলেও অন্য দলগুলির চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি গঠিত হয় শুধু রহমতগঞ্জ-শেখ জামাল্ ম্যাচটির জন্য। আজকে সেই কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে ম্যাচটি সমঝোতার মাধ্যমে হয়েছে এবং এর জন্য ক্লাব দ্বয় এবং সংশ্লিষ্ট খেলোয়ারদের জরিমানার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু ম্যাচ পাতানো আর সমঝোতার মধ্যে পার্থক্য কোথায়? বাংলাদেশ লিগের বাইলজ অনুযায়ি কোন দলের বিপক্ষে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ প্রমানিত হলে তার স্থান অবনমনের বিধান আছে। কি কারনে তদন্ত রিপোর্টে কথার মারপ্যচে উদ্ধার পেয়ে যাচ্ছে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব? দেশের ফুটবলে পাতানো খেলা নতুন কিছু না হলেও এই ভাবে মানুষের চোখে ধুলো দেয়ার চেষ্টার কারন কি? শুধু নাম আর পিছনের শক্তির দাপটেই কি প্রথম বার খেলতে নেমেই তার থেকে র্যাংকিং এ এগিয়ে থাকা নয়টি দলকে অতিক্রম করে বাংলাদেশ লিগ চ্যাম্পিয়ন হলো এই ক্লাবটি। আর যদি ক্লাব দ্বয় কোন অপরাধ না করেই থাকে তাহলে জরিমানার সুপারিশ কেন?
ফুটবল নিয়ে দেশের ক্রিড়াপ্রেমি জনগন যে সপ্ন আবার দেখছিল তা কি স্রেফ কিছু সুযোগ সন্ধানির জন্য ভেষ্তে যাবে। তাহলে কি সেই সুযোগ সন্ধানিরা যার নাম ব্যানার হিসেবে ব্যবহার করছে তার নামের মুল্য এদেশের ফুটবলের ভবিষ্যতের থেকে বেশি।

এই পৃথিবী একবার পায় তারে। সৈয়দ আলি আহসান।

আজকে ২৫ জুলাই কবি,প্রাবন্ধিক,শিক্ষাবিদ,গবেষক,সাহিত্যিক,জাতিয় অধ্যাপক সর্বোপরি আমাদের জাতিয় জিবনের অভিভাবক সৈয়দ আলি আহসান এর নবম মৃত্যুবার্ষিকী। নয়টি বছর তার ইন্তেকালের পর পার হয়ে গেছে কিন্তু তার অভাব এখনও কোন অংশেই পুরন হয়নি। আর বর্তমান সময়ে তার অভাব আমরা অনুভব করছি আরো বেশি।
মরহুম আবুল মনসুর আহমদ মাওলানা আকরাম খানের ইন্তেকালে লিখেছিলেন,”দেশ হারাইল একটি আলোক স্তম্ভ,দেশবাসি হারাইল বাড়ীর মুরুব্বি,সাহিত্যিক সাংবাদিকরা হারাইলেন উপদেষ্টা,রাজনিতিবিদরা হারাইলেন পথের দিশারি,আলেম সম্প্রদায় হারাইলেন একজন অনুপ্রেরনা দাতা”,ঠিক এই কথাগুলি প্রযোজ্য সৈয়দ আলি আহসানের জন্যও। তিনি ইন্তেকাল করেছেন তিরাশি বছর বয়সে। আমাদের গড় আয়ুর হিসেবে দির্ঘ জিবনের অধিকারি হয়েছিলেন। আর এই দির্ঘ জিবনে তিনি এই বাংলাদেশ ও জাতি এবং মানবতার জন্যই কাজ করে গেছেন। বহুমুখি এই প্রতিভা তার মৃত্যর দিন পর্যন্ত কাজ করেঘেছেন,লিখে গেছেন অসংখ্য গবেষনা,প্রবন্ধ,গল্প,উপন্যাস,স্মৃতি কথা এবং অবশ্যই কবিতা। নিজেকে তিনি কবি বলেই পরিচয় দিতেন প্রায়ই যদিও তার প্রধান খ্যাতি ছিল শিক্ষাবিদ হিসেবেই।
সৈয়দ আলি আহসানের জন্ম ১৯২২ সালে ২৬ শে মার্চ মাগুরা জেলার আলোকদিয়া গ্রামে। এই ক্ষেত্রে তার সাথে তার একজন প্রিয় সাহিত্যিক ও বন্ধু ভারতিয় লেখক খুশবন্ত সিং এর মিল আছে। উভয়ের জন্মদিনই পরবর্তিতে স্ব স্ব দেশের স্বাধিনতা দিবসে পরিনিত হয়। গ্রামে তার পড়াশোনার শুরু হয়। পরবর্তিতে তার শিক্ষাবিভাগের কর্মরত পিতার সাথে ঢাকায় স্থায়ি ভাবে চলে আসেন এংব আর্মানিটোলা স্কুলে ভর্তি হন। তিনি তার পরিবারের জেষ্ঠো পুত্র। আর্মানিটোলা স্কুল থেকে,মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষায় উত্তির্ন হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন তিনি এবং এখান থেকে ১৯৪৪ সালে মাষ্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি এরপর প্রথমে যোগ দেন তৎকালনি অলইন্ডিয়া রেডিওতে। রেডিওর প্রোগ্রাম এসিষ্টেন্ট হিসেবে যোগ দেন কলকাতা কেন্দ্রে।তবে এর আগে তিনি সল্প সময় হুগলি কলেজে অধ্যাপনা করেছিলেন। রেডিওতে তার যোগদানের পর তখন রেডিওতে কর্মরত তার সহকর্মি সাহিত্যিক,অভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক নৃপেন্দ্র কৃষ্ণ চট্যোপাধ্যায় এর সহযোগিতায় তিনি তৎকালিন রেডিওতে অবহেলিত মুসলিম বুদ্ধিজিবি এবং শিল্পিদেরকে অনুষ্ঠানের সুযোগ করে দেন। যা রেডিওতে কর্মরত অনেকের কায়েমি স্বার্থকে ক্ষুন্ন করে। তাকে অল ইন্ডিয়া রেডিওর ঢাকা কেন্দ্রে বদলি করা হয়। ১৯৪৭ স্বাধিন হয় পাকিস্তান। ১৯৪৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। ইংরেজি বিভাগের ছাত্র হলেও বাংলা সাহিত্য ও কবিতায় ততদিনে তার খ্যাতি বিস্তৃত হওয়ায় তিনি এই সুযোগ পান। তিনি লেখালেখি ও কবিতা রচনা শুরু করেছিলেন তার স্কুল জিবনেই। তবে কলকাতায় অবস্থান কালেই সাহিত্যিক হিসেবে তিনি পরিচিত হয়ে উঠেন। ১৯৫৩ সালে তিনি করাচি বিশ্ববিদ্যারয়ের বাংলা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগদান করেন। এখানে কর্মরত থাকার সময় তিনি বাংলা ভাষা সাহিত্যকে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচিত করে তুলার জন্য অনেক অবদান রাখেন। ১৯৬০ সালে তিনি বাংলা একাডেমির পরিচালক হিসেবে দ্বায়িত্ব গ্রহন করেন। তার সময়ে বাংলা একাডেমি অত্যন্ত গতিশিল একটি প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠে । কিন্তু তার স্বাধিনচেতা মানসিকতার কারনে তৎকালিন গভর্নর মুনায়েম খানের সাথে তার সংঘাতের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত তাকে বাংলা একাডেমি ত্যাগ করতে হয়। তিনি এরপর অধ্যাপক হিসেবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে যোগদেন। তার সাহিত্য ও পারিবারিক জিবনে এই সময়টি বিশেষ উল্লেখযোগ্য বলে তিনি বিভিন্ন লেখায় উল্লেখ করেছেন। এই সময় পাকিস্তান রাষ্ট্রটির উপর তিনি আস্থা হারিয়ে ফেলেন। ১৯৭১ এর ২৬ মার্চ এর পর তিনি এপ্রিল মাসের প্রথমেই রামগড় দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধে বেতার সম্প্রচার এবং বিশ্বের সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজিবি অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাধিনতার প্রতি সমর্থন অর্জনে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ১৯৭২ সালে তাকে জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত করা হয়।নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় টি গড়ে তুলতে তিনি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। তার ব্যাক্তিত্ব তাকে আবারও সরকারের কর্তাব্যাক্তিদের বিরাগ ভাজন করে তুলে। সরকারি দল এবং এর ছাত্র সংগঠনের কাছে আত্মসমর্পন না করার অনমনিয়তার জন্য তিনি তাদের চক্ষুশুল হয়ে উঠেন। শেষ পর্যন্ত তাকে পদত্যাগ করতে হয়। তৎকালিন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবর রহমান তার প্রতি শ্রদ্ধা সত্বেয় তাকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেন। এর পর তিনি আবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যায়ে যোগ দেন ।১৯৭৫ সালের শেষ দিকে তিনি রাজশাহি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিযুক্ত হন। ১৯৭৭ সালে পুর্ন মন্ত্রির পদমর্যাদায় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে যোগদেন। তার দায়িত্ব ছিল শিক্ষা,ক্রিড়া,সংস্কৃতি ও ধর্ম বিভাগের। এই পদে থেকে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের উদ্যোগ নেন এবং অনেক কাজ সম্পন্ন করতেও সক্ষম হন। এর মধ্যে দেশের কারিগরি শিক্ষা ও পলিটেকনিক ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলির উন্নয়নে তার অবদান বিশেষ উল্লেখযোগ্য । দেশের ক্রিড়ার উন্নয়নে ও তিনি অনেক কাজ করেন। এসময় ই বাংলাদেশ আইসিসির সহযোগি সদস্য পদ লাভ করে এবং বক্সার মুহাম্মদ আলি বাংলাদেশ সফরে আসেন। তার এই বহুমুখি কর্মকান্ড আবার কায়েমি স্বার্থবাদি শক্তির জন্য বিপদ হয়ে দেখা দেয় এবং শেষ পর্যন্ত তিনি এই দায়িত্ব থেকে সরে আসেন। এরপর দির্ঘদিন তিনি কোন নিয়মিত কাজ করেননি। মাঝখানে কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। ১৯৮৯ সালে তিনি জাতিয় অধ্যাপক হন। শেষ বয়সে তার ছোটভাই সৈয়দ আলি আশরাফ প্রতিষ্ঠিত দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন।
সৈয়দ আলি আহসান তার দির্ঘ জিবনে আমাদের দেশ ও জাতির জন্য অনেক কাজ করে গেছেন। জিবনের শেষ দিনগুলিতেও তার লেখার বিরাম ছিলনা। অসংখ্য প্রবন্ধ ও স্মৃতিকথায় তিনি সম্বৃদ্ধ করেছেন বাংলা সাহিত্যকে। আর কবি হিসেবে তিনি বাংলা সাহিত্যের একজন নতুন দিগন্তের সৃষ্টি কারি ।
২০০২ সালের ২৫ শে জুলাই তিনি ঢাকায় ইন্তেকাল করেন।

আজকে তার নবম মৃত্য বার্ষিকিতে দেশের পত্রিকা ও ব্লগের নিরবতা দেখে ভাবছি এই দেশে কি তার মতো আর কেউ জন্ম গ্রহন করবে কিনা।

ঈদ-উল -আযহা। কুরবানী এবং আমাদের দেশের মানুষ।

ঈদ মুবারক,ঈদ মুবারক ঈদ মুবারক হো
রাহেলিল্লাহকে বিলিয়ে দিয়ে কে হলো শহিদ।


ইসলাম এর অনুসারিদের জন্য যে দুটি উৎসব এর দিন নির্ধারিত আছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে ঈদ-উল-আযহা। এই ঈদের অন্যতম অনুসঙ্গ পশু কুরবানি। ঈদ উল আযহার দিন সামর্থবান সকল মুসলিম নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের নামে হালাল পশু কুরবানি করেন। এই কুরবানি কৃত পশুর গোস্ত নিজে পরিবারের সাথে গ্রহন করেন এবং এর একটি বড় অংশ দরিদ্র মানুষদেরকে দেন। এই দান দয়া নয় বরং কুরবানির গোস্তে বঞ্চিতদের অধিকার।

বাংলাদেশে এবং বিশ্বে অনেকেই আছেন যারা এই কুরবানির বিরোধিতা করেন। কারো যুক্তি তথাকথিত পশু অধিকার নিয়ে আর বাংলাদেশে প্রধান যুক্তি অর্থনিতি নিয়ে। বাংলাদেশে প্রধানত যে পশু কুরবানি হয় তা হলো গরু। এই নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন যে আমাদের কৃষি কাজে যেহেতু গরু ব্যবহত হয় সেহেতু গরু কুরবানি করা কৃষি কাজে উৎপাদনের হার কমিয়ে দেয়। এই যুক্তিটি সম্পুর্ন ভুল। আমাদের দেশে অনেক যায়গায় ১৯৪৭ এর পুর্বে গরু কুরবানি করা যেতনা। অথচ কৃষি গবেষনা কাউন্সিল এর তথ্য অনুযায়ি আমাদের দেশের মোট কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে তার পর থেকে কয়েকশত গুন।

পুষ্টির ক্ষেত্রে আমাদের দেশে প্রোটিন ঘাটতির পরিমান প্রায় ৭৫ শতাংশ। অনেক দরিদ্র আছেন সারা বছরের মধ্যে শুধু এই দিন ভাল ভাবে গোস্ত খেতে পারেন। অনেকে এই সময় যা গোস্ত পান তা দিয়ে পরবর্তি দুই-তিন মাসের গোস্তের চাহিদা পুরন করেন।
ঈদুল আযহা উপলক্ষে দেশের অর্থনিতিতে একটি বিশাল অর্থ সার্কুলেশন হয় যা আমাদের মত একটি দেশের উন্নয়নের জন্য অতি প্রয়োজনিয়। এই কাজটি কিন্তু চলে সারা বছর ধরেই। আমাদের দেশে যে পরিমান গরু কুরবানি হয় তার একটি অংশ ভারত থেকে বৈধ-অবৈধ পথে আমদানি হয়। ছাগল অবশ্য প্রধানত দেশেই উৎপাদিত হয়। এই আমদানির হার আরো বেশি ছিল কিন্তু বর্তমানে গ্রামীন উন্নয়নে গরু মোটাতাজাকরন সহ বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে এই আমদানির হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ঈদ-উল-আযহা এর জন্য পশু পালন গ্রামীন জনগনের জন্য একটি উপযুক্ত কর্মসংস্থান। বিশেষ করে ছাগল পালন এই জন্য গ্রামীন দরিদ্র জনগোষ্ঠির একটি বড় আয়ের উৎস।
ঈদ-উল আযহার জন্য এই পশু কে কুরবানির উপযুক্ত করার জন্য সরাসরি জড়িত থাকে অনেক গুলি পক্ষ যার সকলই কিছু আয়ের সুযোগ হয় এ সময়। আমরা যদি পর্যায় ক্রমে দেখি তা হলে বুঝা যাবে কিভাবে ঈদুল আযহা আমাদের অর্থনিতির উপকার করে।
১.কুরবানির জন্য পশু পালন:- কুরবানির জন্য পুর্নবয়স্ক এবং সুস্থ সবল পশু প্রয়োজন। এজন্য পশু পালনকারী তাকে উপযুক্ত খাদ্য খাওয়ায় এবং নিয়মিত চিকিৎসা করে। এক্ষেত্রে উপকারভোগি পক্ষগুলি হচ্ছে পশুপালনকারী, সহায়তাকারী,পশু ডাক্তার, ওষুধ বিক্রেতা এবং পশুখাদ্য বিক্রেতা।
২.কুরবানির পশু বিক্রয়ের জন্য নিয়ে যাওয়া:- কুরবানীর পশু বিক্রয়ের জন্য উপযুক্ত হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাক-ট্রলার ইত্রাদি বাহন ব্যবহার করা হয়। ঢাকা শহরের একটি হাটেই ঈদের ছয়-সাতদিন দিনে গড়ে ১০০ট্রাক কুরবানীর পশু আসে। এক্ষেত্রে উপকারভোগি ট্রাক-ট্রলার চালক,সহকারি,মালিক। উঠানামার কাজে সাহাজ্য কারী শ্রমিক। এবং গ্রাম থেকে পশু ক্রয় করে আনার পাইকার এবং তার সহায়তা কারীরা।
৩.হাটে রাখা :-হাটে পশু রাখতে এবং বিক্রি না হওয়া পর্যন্ত তার জন্য খাবার-পানি ইত্যাদি প্রয়োজন হয়। এই ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান হয় অনেকের। অন্যদিকে শহরের স্থায়ি-অস্থায়ি হাট থেকে সরকার সরাসরি ইজারা এবং ভ্যাট এর মাধ্যমে রাজস্ব পায়। উপকার ভোগি পক্ষগুলি হচ্ছে হাটের ইজারাদার এবং তার কর্মচারি, হাট সাজানর জন্য উপকরন যথা বাঁশ,শামিয়ানা লাইটিং ইত্যাদি সরবরাহকারী ,হাটে পশুখাদ্য সরবরাহকারী, গোবর সংগ্রহকারী এবং হাট পরিস্কারে নিয়োজিত কর্মচারি,ট্যাক্স ইজারা ও ভ্যাট এর মাধ্যমে সরাসরি সরকার।
৪.বাসায় আনা:- বেশিরভাগ কুরবানী দাতাই ঈদের দুই তিনদিন আগে কুরবানির পশু কিনে নেন। এই দুইতিনদিন পশুদের খাবার স্থানিয় ভাবে সরবরাহ করা হয় এবং দেখাশুনার জন্য লোক নিয়োজিত করা হয়।
৫.কুরবানির প্রস্তুতি:- কুরবানির এবং গোস্ত কাটার জন্য উপযুক্ত ছুড়ি,দা বটি যোগাড় এবং পুরোন গুলি ধার দেওয়া হয়। পশু বাধার জন্য দড়ি এবং গোম্ত কাটার জন্য পাটি ও রাখার জন্য ঝুড়ি ও পাত্র। এক্ষেত্রে সরাসরি উপকার ভোগি এই জিনিস গুলির নির্মাতা ও সরবরাহকারীরা।
৬.কুরবানীর গোস্ত ও চামড়া:- কুরবানির গোস্ত গ্রহনকারী সকল ব্যাক্তি। গোস্ত কাটার জন্য নিয়োজিত পেশাদার ও অপেশাদার কসাই,চামড়া ক্রেতা এবং কোন মাদ্রাসা বা ইয়াতিম খানায় দেয়া চামড়ার উপকারভোগি।
এই্গুলো কুরবানি দেয়ার আগে ও পরের অর্থনিতিতে অবদান ও উকারভোগিদের বিবরন। কুরবানির আরেকটি বড় অবদান হচ্ছে চামড়া শিল্প। বাংলাদেশ বর্তমানে চামড়া শিল্প থেকে বছরে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার আয় করে যার পঞ্চাশভাগ এর বেশি কাজ হয় কুরবানী উপলক্ষে। অনেক ট্যানারি আছে যারা শূধূ এই সময়ই কাজ করে। এই ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে আমদানির অংশ খুবই কম অর্থাত এই আয় পুরোপুরি মেধের অর্থনিতিতে অবদান রাখে। দেশিয় জুতা ও অন্যান্য শিল্পেও কাচামাল হিসেবে এই চামড়া ব্যবহৃত হয়।

কুরবানির ঈদ বাংলাদেশের অর্থনিতিতে কোন খারাপ প্রভাব তো ফেলেই না বরং এটি দেশের অর্থনিতি এবং কর্মসংস্থান বিশেষ করে গ্রামীন কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে অনেক বড় অবদান রাখে। যারা কুরবানির বিরোধিতা করেন তারা মূলত অজ্ঞতা এবং অসৎ উদ্দেশ্য নিয়ে করেন। দেশে অনেকই দারিদ্রের জন্য প্রয়োজনিয় প্রোটিন পায়না,সামর্থবান ব্যাক্তিরা এই দিন কুরবানি করেন এবং সেই কুরবানিকৃতপশুতে সামর্থহীনদের যে অংশ থাকে তার মাধ্যমে তারা কিছুদিনে জন্য হলেও প্রোটিন চাহিদা পুরুনের সুযোগ পান।
সুতারং কুরবানি আমাদের মত দেশের জন্য শুধু যুক্তিযুক্তই নয় উন্নয়নের জন্য অতি প্রয়োজনিয়।

আরবী মাস ও তারিখ নিয়ে জটিলতা। আজকে দশই মুহররম ঠিক।

আরবী মাস অনুযায়ি ইসলাম এর অনুসারিরা তাদের ইবাদত ও উৎসব পালন করে থাকেন। আরবী সাল গননা পদ্ধতিতে মাস একটি চান্দ্র মাস। অর্থাত চাঁেদর আবর্তনের উপর নির্ভর করে এই মাস এর প্রথম ও শেষ দিন নির্ধারন করা হয়। বিভিন্ন আলেম দের কাছ থেকে যতটুক যেনেছি। হাদিসে রমজানের রোজা সম্পর্কে বলা হয়ে চাঁদ দেখে রাখতে এবং চাঁদ দেখে রোজা ছাড়তে। আর্থাত চাক্ষুস চাঁদ দেখার উপর রমজান মাস নির্ভরশিল। কিন্তু শুধু রমজান মাস নয় অন্য মাস গননার ক্ষেত্রেও এই গ্রহনযোগ্য একাধিক মুসলিম ব্যাক্তির চাঁদ দেখার সাক্ষের উপর নির্ভর করে আরবী মাস নির্দারন করা হয়। আরবী বছর গননা করা হয় সাধারনত ৩৫৫-৩৫৬ দিনে। ঋতুর উপর এই সাল নির্ভরশিল নয়। আরবী মাসগুলি চাঁদের আবর্তনের উপর নির্ভর করে ২৯ বা ত্রিশ দিনে হয়। চাঁদের নিজস্ব কোন আলো নাই। সুর্যের আলো চাঁদের যে উপর পরে তাই পৃথিবী থেকে দৃশ্যমান হয়। যখন সুর্যেল আলো সম্পুর্ন চাঁদকে দৃশ্যমান করে তখনই পুর্ন চাঁদ দৃশ্যমান হয় যাকে আমরা পুর্নিমা বলি। পুর্নিমার পর থেকে চাঁদ আকারে ছোট হতে থাকে এবং অমবস্যার রাতে চাঁদ একদমই দেখা যায়না। এই অমাবস্যার পরে যে ছোট্য কাস্তে আকৃতির চাঁদ দেখা যায় তাকেই নতুন চাঁদ বলা হয় এবং আরবী মাসের প্রথম তারিখ গননা করা হয় সেই চাঁদ দেখা যাওয়ার রাত থেকে। দুটি পুর্নিমার মধ্যে মোটামুটি ২৯ দিন বারো ঘন্টা ৪৪ মিনিট এর ব্যবধান থাকে। এখন পৃথিবী,চাঁদ এবং সূর্য সবকিছূই তার জন্য নির্দিস্ট কক্ষপথে আবর্তন করে চলছে। পৃথিবী তার আবর্তনের জন্য এর অর্ধাংশে দিন ও অপরঅর্ধে রাত থাকে। সুর্যের আলোর প্রখরতা ও অন্যান্য কারনে দিনের বেলা চাঁদ খুব কমই দৃশ্যমান হয়। নতুন চাঁদ গননা করা হয় কেবল মাত্র সুর্যাস্তের পর। এখন পৃথিবীথেকে চাঁদ ও সুর্যের দুরুত্ব ও অবস্থানের ভিন্নতার কারনে এবং দিবারাত্রির প্রভাবে পৃথিবীর সকল স্থান থেকে একই সময়ে নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হয়না। যে কারনে সাধারনত আমাদের দেশের রমজান এবং ঈদ মধ্যপ্রাচ্যের একদিন পরে উদযাপিত হয়। কিন্তু এরকম সবসময় হওয়া বাধ্যতামুলক নয়। যেহেতু এটি চাঁদ নির্ভরযোগ্য ব্রক্তির সচক্ষে দেখার উপরই নির্ভরশিল। চাঁদের আবর্তন সময় হচ্ছে প্রায় সাড়ে উনত্রিশ দিন। সুতারং উনত্রিশতম রাত্রেও ানেক যায়গায় চাঁদ দৃশ্যমান হয়্। আবার পৃথিবীর অনেক জায়গায় নতুন চাঁদ দৃশ্যমান হয় আগের মাসের তিরিশতম সন্ধায়।
এখন এবছর দেখা যাচ্ছে সৈীদি আরব সহ মধ্যপ্রাচ্য এবং আমাদের দেশে একই দিনে মুহররম মাস শুরু হয়েছে। এবং সেই ধারাবাহিকতায় ১০ই মুহররম আশূরা একই দিনে পালিত হচ্ছে। উভয় দেশের সরকারী চাঁদ দেখার জন্য নির্ধারিত পরিষদ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অনেকে বলছেন এটি সম্ভব নয় এবং বাংলাদেশে মুহররম আগামীকাল ৭ই ডিসেম্বর পালন করতে হবে। আমি মনে করছি এই দাবি অত্যন্ত অযেীক্তিক। গত নয়দিন বাংলাদেশের কোন উল্লেখযোগ্য আলেম এই বিষয় নিয়ে কোন বক্তব্য রাখেননি। অন্যদিকে সেীদি আরবে সম্ভবত দুই দিন পর সিদ্ধানত নেয়া হয় যে মুহররম মাস ইংরেজি ২৭শে নভেম্বর এর দিন এবং এর পুর্বরাত ২৬ শে নভেম্বর থেকৈ গননা করা হবে। ২৫ শে নভেম্বর এর রাতে নির্ভরযোগ্য চাঁদ দেখার সংবাদ না পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। উভয় দেশের চাঁদ দেখ কমিটিই কোন ভুল করেছে বলে মনে হয়না। ইউএস নেীবাহিনীর পরিচালিত নিন্মের ওয়েবসাইটে পৃথিবীর সকল ষ্থান থেকে চাঁদ ও সুর্যের অবস্থান সংক্রান্ত সম্ভাব্য তথ্য ও উপাত্ত পাওয়া যায়।
http://aa.usno.navy.mil/data/docs/RS_OneDay.php

এই সাইটের তথ্য অনুসারে পবিত্র মক্কা নগরীর অক্ষাংশ ২১ ডিগ্রি ২৫ মিনিট এবং দ্রাঘিমা ৩৯ ডিগ্রি ৪৮ মিনিট এর ২৫ এ নভেম্বর রাতে চাঁদ ও সুর্যের সম্ভাব্য সময়গুলি হচ্ছে।
(longitude E39.8, latitude N21.4):
Friday 25 November 2011 Universal Time +3h

SUN
Begin civil twilight 06:14
Sunrise 06:38
Sun transit 12:08
Sunset 17:37
End civil twilight 18:01

MOON
Moonset 16:52 on preceding day
Moonrise 06:37
Moon transit 12:14
Moonset 17:51
Moonrise 07:41 on following day
New Moon on 25 November 2011 at 09:10

অর্থাত এই দিন সুর্যাষ্ত হবে সন্ধা পাঁচটা সাইত্রিশ মিনিটে অন্যদিকে চাঁদ দেখা যাবে পাঁচটা একান্ন মিনিট পর্যন্ত। অর্থান সুর্যষ্তের পর মাত্র বার মিনিট চাঁদ দৃশ্যমান থাকবে। এই সময়ের মধ্যে চাঁদের অতি ক্ষুদ্র যে অংশ দেখা যাবে তা খালি চোখে না দেখার সম্ভাবনা প্রবল। সুতারাং সৈীদি কর্তৃপক্ষ এই দিন চাঁদ দেখা না যাওয়া স্বাভাবিক ভাবেই পরেরদিন দিবাগত রাত অর্থাত ২৬ শে নভেম্বর থেকে মুহররম মাস গননা করছে। সৈীদি আরবের অন্যান্য অঞ্চলের মধ্যেও সর্বোচ্চ দশ মিনিটের ব্যবধান থাকায় অন্যান্য অঞ্ছলেও চাঁদ দেখা না যেতে পারে। কারন মক্কা নগরী সেীদি আরবের পশ্চিম দিকে অবস্থিত এবং এর পুর্বের অঞ্চলে আরো আগে সুর্যাস্ত হয়।
অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারের চাঁদ দেখা কমিটি ২৬শে নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে ১লা মুহররম গননা শুরু করেন যার কারনে আজকে ৬ই ডিসেম্বর ১০ই মুহররম আশুরার দিন হিসেবে পালিত হচ্ছে। একই ওয়েবসাইট এর তথ্য অনুসারে ঢাকার অক্ষ ও দ্রাঘিমাতে সম্ভাব্য সময়।

(longitude E90.4, latitude N23.7):
Saturday 26 November 2011 Universal Time + 6h

SUN
Begin civil twilight 05:56
Sunrise 06:20
Sun transit 11:46
Sunset 17:11
End civil twilight 17:35

MOON
Moonset 17:15 on preceding day
Moonrise 07:15
Moon transit 12:46
Moonset 18:17
Moonrise 08:15 on following day

Phase of the Moon on 26 November: waxing crescent with 1% of the Moon's visible disk illuminated.
এই উপাত্ত অনুসারে ২৬ শে নভেম্বর রাতে ঢাকায় সুর্যাস্ত হবে পাঁচটা এগারো মিনিটে এবং চাঁদ দেখা যাবে ছয়টা সতের পর্যন্ত। অর্থাত প্রায় একঘন্টা সময় চাঁদ দৃশ্যমান থাকবে এবং পুর্নিমার সময় যে পুর্ন চন্দ্র দেখা যায় তার এক শতাংশ আকৃতির চাঁদ দেখা যাবে। এই টুক আকৃতির চাঁদ দেখার জন্য এক ঘন্টা যথেষ্ট সময়। সুতারাং ২৬শে নভেম্বর দিবাগত রাত থেকে মুহররম মাস গননায় কর্তৃপক্ষ কোন ভূল করেছেন বলে মনে হয়না।

গত নয়দিন ধরে এই দিনটি নির্ধারিত থাকলেও কোন উল্লেখযোগ্য আলেম বা সংগঠন এর বিরোধিতা করেছেন বলে আমার জানা নাই। কেন্ জানি ব্লগে গত দু্ই একদিন ধরে অনেকে মত প্রকাশ করছেন যে যেহেতু সেীদি আরবে আজকে দশই মুহররম পালন করা হচ্ছে সেহেতু আমাদের দেশে আগামীকাল ১০ই মুহররম ধরা উচিত। এই দাবির পক্ষে কোন যুক্তি আমার নজরে আসছেনা। এরা অনেকটা তাদের মতই আচরন করছেন যারা প্রতি বছরই বাংলাদেশের কয়েকটি স্থানে সেীদি আরবের সাথে মিলিয়ে রোজা ঈদ পালন করা হয়। চাঁদ দেখা গেছে কি যায়নি তা বিবেচনা করা হয়না। অন্যদিকে কালকে বাংলাদেশে ১০ই মুহররম নির্ধারনের জন্য যারা দাবি করছেন তারাও অনেকটা সেভাবেই সেীদি আরবের একদিন পর এখানে চাঁদ দেখা যাওয়াটা বাধ্যতমুলক বলে মনে করছেন। যেহেতু নিজের দেশে চাঁদ দেখার উপরই আরবী তারিখ নির্ধারিত হয় সুতারাং আমাদের দেশে যেহেতু তথ্য ও উপাত্ত অনুসারে ২৬শে নভেম্বর সন্ধায় দির্ঘ সময় ধরে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভবনা আছে সুতারাং কর্তৃপক্ষ নিশ্চই নির্ভরযোগ্য ব্যাক্তির চাক্ষুস সাক্ষের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত নয়দিন যেহেতু কোন উল্লেখযোগ্য আলেম এর প্রতিবাদ করেননি সুতারাং একে ভুল বলে মনে করার কোন কারন দেখছিনা।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও সাহারার ইতিকথা।

সাহারা গ্রুপ বাংলাদেশে আবাসন খাতে বিনিয়োগ করার জন্য চুক্তি সাক্ষর করেছে। পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতি পুর্ন দেশ হওয়ার কারনে এখানে জমির মুল্য অনেক (সিঙ্গাপুর বা হংকং তত্বগতভাবে আরো বেশি ঘনবসতি পুর্ন হলেও সেগুলি ক্ষুদ্রাকৃতি সিটি স্টেট)। সেখানে সাহারা গ্রুপকে রাজধানির আশেপাশে একলক্ষ একর জমি দেওয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে রাজউক। অর্থাত এই জমি হুকুম দখল আইন প্রয়োগ করে সামান্য ক্ষতিপুরন দিয়ে বর্তমান মালিক দের থেকে নেয়া হবে এবং তা সল্পমুল্যে সাহারার কাছে স্থানান্তর করা হবে। এই ক্ষতিপুরন ও আবার দেওয়া হবে জমির মালিকদের আবেদনের ভিত্তিতে। মানে আপনি যদি নিজে জমির মালিক হন তবে আপনাকে দেীড়াদেীড়ি করে এবং প্রচুর ঘুষ দিয়ে নিজের উত্তরাধিকার কিংবা ক্রয় সুত্রে প্রাপ্ত জমির অনুপযুক্ত মুল্যটি আদায় করতে হবে। বাংলাদেশে মাথাপিছূ জমির পরিমান মাত্র .২৫ একর। অর্থাত এই পরিমার জমি সাহারাকে দেওয়ার জন্য বাস্তুহারা করতে হবে কমপক্ষে ৪ লক্ষ লোক। আর এই এলাকা ডেভেলপ করে সাহারা উচ্চমুল্যে এই জমি পুনঃবিক্রিয় করবে তারা সন্দেহাতিতভাবে হবে উচ্চবিত্ত ( অপ্রাসঙ্গিক হলেও একটি ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা বলছি, যেখানে আমাদের দেশে ৭-৮ সদস্যের একটি পরিবার ৬০০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এ বসবাস করেন সেখানে একজন ব্যবসায়ির বেডরুমের আয়তন দেখেছি ১৪০০ বর্গফুট)। ইতঃমধ্যে আমাদের দেশের আবাসন ডেভেলপমেন্ট সেক্টর ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সেক্টর থেকে এই ব্যাপারে বিভিন্ন আপত্তি উঠেছে।
এই সাহারাগ্রুপ এবং এর মালিক সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিচ্ছি। সাহারার ইতিহাস শূরু ১৯৭৮ সালে। বর্তমানের সাহারা ম্যানেজিং ওয়ার্কার( সাহারাগ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর পদবির বদলে এই পদবি ব্যবহার করে) সাহারাশ্রী সুব্রত রায় কিন্তু এর প্রতিষ্ঠাতা নন। এটি ছিল একটি ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রতিষ্ঠান এবং মার্কেটিং এর কাজ ও করত। অন্যদিক থেকে বলতে গেলে এটি আজকের এমএলএম প্রতিষ্ঠানগুলির পুর্বসুরি। তবে এই প্রতিষ্ঠান ভারতে ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋনদান সংস্থা হিসেবে লাইসেন্স প্রাপ্ত ছিল। সুব্রত রায় ১৯৭৮ সালে এই সংস্থার যখন একবারে শৈশব তখন সেখানে এজন্ট হিসেবে যোগদেন। সুব্রত রায় এর জন্ম ও বসবাস বিহারের গোরখপুরে। প্রকৃত বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের নদিয়া জেলায়। পিতা ছিলেন সুগার মিলের উচ্চপদস্থ ইঞ্জিনিয়ার। কলকাতা,বেনারস বিভিন্ন জায়গায় স্কুল জীবন পার করেন। গোরখপুর পলিটেকনিক থেকে মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ডিপ্লোমা করার পর বিভিন্ন প্রকার ব্যবসার চেষ্টা করেন কিন্তু কখনও চাকরি করেননি। ১৯৭৮ সালে পিতার মৃত্যুর পর কিছূটা সমস্যায় পরেন তিনি। এই সময় তার মা তৎকালিন সাহারা প্রতিষ্ঠানে মাসিক ভিত্তিতে কিছূ অর্থ সঞ্চয় করতেন সে সুত্রে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে পরিচিত হন তিনি। তিনি স্থানিয় ব্যাক্তি হওয়ায় এজন্ট হিসেবে বেশ সাফল্য অর্জন করেন এবং ধিরে ধিরে এই প্রতিষ্ঠানের একক নিয়ন্ত্রক এর ভুমিকায় উঠে আসেন। তিনি প্রাপ্ত সঞ্চয় শুধুমাত্র সরকারী বন্ড বা সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ এবং ঋনদানের বদলে সঞ্চিত টাকা সংস্থার নিজস্ব উদ্যোগে বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেন। এই উদ্যোগ থেকে প্রথমেই শুরু হয় সাহারার আবাসন ব্যবসা। অসংখ্য ক্ষুদ্র সঞ্চয় একত্র করে এই প্রতিষ্ঠান বৃহত পুঁজি গঠন করতে সমর্থ হয়। এরপর এই প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করে মিডিয়া,টুরিজম, সাস্থ সেবা , হোটেল ,পরিবহন,তথ্যপ্রযুক্তি ইত্যাদি খাতে। এই প্রতিষ্ঠানের মূল ব্যবসা ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও বিনিয়োগ ও বর্তমানে চালু আছে। সেই সঙ্গে এই সঞ্চয় এর বিপরিতে নিত্য প্রয়োজনিয় সামগ্রি সরবরাহের ব্যবসাও এর অন্যতম লাভজনক ব্যবসা। এছাড়াও খাদ্য সরবরাহকারী চেইন শপ ”কিউ শপ” এর মালিক ও এই গোষ্ঠি। সাহারা এয়ার লাইন্স নামে বিমান পরিবহন সংস্থাও চালু করা হয়েছিল কিন্তু লাভ করতে না পারায় তা জেট এয়ারওয়েজ Í কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের মার্কেট ক্যাপিটাল ২৫ বিলিয়ন ডলার এবং বাৎসরিক আয় প্রায় ৭৩ হাজার কোটি রুপি। এছাড়া আইপিএল এর পুনে ওয়ারিয়র্স এর মালিক সাহারা। রেসিং কার সহ ক্রিড়া ক্ষেত্রেও এর প্রচুর বিনিয়োগ এবং স্পনসর আছে।
অন্যান্য ব্যবসায়িক গ্রুপের সাথে এর কিছূ মেীলিক পার্থক্য আছে। যেমন এর কর্মিরা শুধু কর্মচারি নন বরং প্রতিষ্ঠানের শেয়ার হোল্ডার ও হয়ে থাকেন। লাভের একটি বড় অংশই কর্মিকল্যানে ব্যায় হযে থাকে। প্রধান কর্মচারিদের সাথে নিন্মপদস্থ কর্মচারিদের বেতন বা পদমর্যাদায় পার্থক্য যাই থাকুকনা কেন প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য সুযোগসুবিধা সমান পান। কর্পোরেট সংস্থাগুলিতে যেখানে বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার জন্য বিভিন্ন মানের ক্যান্টিনও থাকে সেখানে সাহারার প্রধান সহ সকলেই সংষ্থার হেড অফিসে একই ক্যান্টিনে একই খাবার গ্রহন করেন। প্রতিস্ঠানের প্রধান কর্মচারিরা ডিরেক্টের বা ম্যানেজার এর বদলে ম্যানেজিং ওয়ার্কার বলে পরিচিত। আরেকটি জিনিস এই গ্রুপটিতে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যেখানে ভারতের বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলি উচ্চবেতনে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ ম্যনেজমেন্ট এর মত বিখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানথেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত সদ্য গ্রাজুয়েট দেরকে নিযুক্ত করে সেখানে এই প্রতিষ্ঠান এর বেশিরভাগ কর্মকর্তাই সাধারন কলেজ বা অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রিপ্রাপ্ত। এখানে ডিগ্রির চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া কাজের যোগ্যতার। বর্তমানে সাহারা ভারতে বেসরকারী সর্ববৃহত মানব সম্পদের অধিকারি এবং সমগ্র ভারতে রেলওয়ের পর বৃহত্তম এমপ্লয়ার। যদিও এদের একটি বড় অংশই স্থায়ি কর্মচারি নন। বরং কমিশনের ভিত্তিতে আমানত সংগ্রহ করেন এবং নিত্তপ্রয়োজনিয় দ্রব্যাদি ক্রেতার কাছে সরবরাহ করেন। তবে তারাও ইন্সুরেন্স,চিকিৎসা সহ অন্যান্য সুবিধা পেয়ে থাকেন। সাহারার নামটি নিয়েও বেশ হাস্যকর একটি ব্যাপার আছে। প্রকৃত পক্ষে এই প্রতিষ্ঠান টির নাম ছিল সহারা অর্থাত হিন্দি ভাষায় সাহাজ্য। কিন্তু ইংরেজি বানান ও উচ্চরনে সাহারা হয়ে গেছে। মোটের উপর একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠান থেকে সাহারা বেশ ভিন্নতর। এর প্রধান সুব্রত রায় ও ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিজস্ব নিতি অনুসরন করে চলেন এবং তিনি যথেষ্ট সফল।

ব্যাসায়িক ক্ষেত্রে সফল ও ভাল প্রতিষ্ঠান হলেও বাংলাদেশে সাহারার বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য লাভজনক হবে কিনা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের কারন আছে। সাহারা আবাসন খাতে প্রধানত ব্যবসা করে থাকে ভারতের মহারাষ্ট্র ও উত্তর প্রদেশে। জনবহুল হলেও এই দুটি রাজ্যে প্রাকৃতিক কারনে অনেক জমি অব্যবহত ছিল। সাহারা বিশাল বিনিয়োগ এর মাধ্যমে এই জমি কে ভরাট ও পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করে তাকে ব্যবহার উপোযোগি করেছে। সেখানে বাংলা দেশে একটি নতুন শহর প্রতিষ্ঠার জন্য এক লক্ষ একর জমি ঢাকা নগরীর আশে পাশে রাজউক এর আওতার মধ্যে এক সাথে পাওয়ার চিন্তা করাই অসম্ভব। এই এলাকার মধ্যে ইতঃমধ্যেই দেশিয় প্রতিষ্ঠানগুলি প্রচুর বিনিয়োগ করেছে এবং এখানে তাজা শাকসবজি এবং দুধ ডিম সহ বিভিন্ন কৃষি পন্যের খামার ও গড়ে উঠেছে। সুতারাং এই পরিমান জমি যদি সল্পমুল্যে সাহারাকে দেয়া হয় তাহলেকৃষি ক্ষেত্রেও বিরাট ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে। সুতারাং এই বিনিয়োগ কতটুক দেশের স্বার্থে হবে তানিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে। সাহারা গ্রুপ যদিও অনেক বেশি জনকল্যানমুলক তথাপি তারা ব্যবসা করার উদ্যেশ্যেই আসবে এবং এ ব্যাপারে তাদেরও কোন লুকোচুরি নাই। বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা দিয়ে সাহারা গ্রুপ কে বিনিয়োগ করার সুযোগ দিয়ে যে পরিমান কর্মসংস্থান হবে সেই সুযোগসুবিধা গুলি যদি দেশিয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে দেয়া হয় তা হলে সেগুলি অনেক বেশি কর্মসংষ্তান সৃস্টি করতে পারবে। আর নিশ্চিত ভাবে বলা যায় সাহারা গ্রুপ তাদের প্রকল্পে কখনই অর্ধেক এর বেশি কর্মচারি এদেশ থেকে নিয়োগ করবে না এবং নিশ্চিতভাবেই উচ্চ পদে নিয়োগ করবেনা। অন্য দিকে আবাসন সংশ্লিষ্ট শিল্প গুলি যথা ইট,সিমেন্ট,রড,রং,এলুমিনিয়াম, টাইলস ইত্যাদির ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ এখন অনেক এগিয়ে আছে। সেখানে সাহারা নিম্চিতভাবেই তাদের নিজস্ব কারখানায় তৈরি এই জিনিসগুলি ব্যভহার করবে যেখানে দেশিও প্রতিষ্ঠানগুলি দেশের জিনিস ব্যবহার করে। সব মিলিয়ে বর্তমান শর্তে সাহারার বিনিয়োগ প্রকৃত পক্ষে কতটুক লাভ জনক হবে তা চিন্তার বিষয়।

* সাহারা ও সুব্রত রায় সংক্রান্ত তথ্যগুলি ইন্টারনেট এবং ভারতের বিশিষ্ট সাহিত্যিক শংকর রচিত
" বাঙ্গালীর বিত্ত সাধনা সাহারার ইতিকথা" বইটি থেকে নেয়া হয়েছে।

শাহানশাহ ই গজল। মেহদি হাসান।

দুনিয়া কিসিসে পেয়ার হ্যায়,মুঝে তুম নযর সে, রনজিস ই সহি। অসংখ্য হৃদয় আলোকিত উদ্বেলিত করা গজল এর শিল্পি মেহদি হাসান চলে গেছেন আজ ১৩ই জুন,২০১২। তার উপাধি ছিল শাহানশাহ ই গজল বা গজল সম্রাট। আধুনিক গানের যন্ত্রপ্রধান সংগিতের মধ্যেও বানী ও সুর প্রধান গজল কে উপমহাদেশের তরুন সমাজের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলার ক্ষেত্রে তার অবদান অবিস্মরনিয়। পাশাপাশি তিনি আধুনিক উর্দু,হিন্দি এবং বাংলা গানও গেয়েছেন। পাকিস্তানি উর্দু ছায়ছবির অসংখ্য হিট গানের প্লে ব্যাক করেছেন তিনি। তবে তার প্রধান পরিচয় অবশ্যই গজল শিল্পি হিসেবে। তার গাওয়া গানের সংখ্যা ২০০০০ এর উর্ধে।
মেহদি হাসান এর জন্ম বর্তমান ভারতের রাজস্থানের বিখ্যাত গ্রাম লুনি তে ১৯২৭ সালের ১৮ই জুলাই। ছোট হলেও লুনি গ্রামটি সংগিতের জন্য বিখ্যাত। সত্যজিত রায় তার ”গুপি গাইন বাঘা বাইন” এবং ” সোনার কিল্লা” ছবির শুটিং করেছিলেন সেখানে এবং এই ছায়ছবিতে ব্যবহার করেছিলেন সেই গ্রামের অধিবাসিদের গাওয়া ও বাজান সঙ্গিত। মেহদি হাসান এর পিতা উস্তাদ আজিম খান ও চাচা উস্তাদ ইসমাইল খান এর থেকে সঙ্গিতে প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। তার পরিবার অনেক পুরুষ ধরেই চলে আসছে সঙ্গিত চর্চার ধারা। অল্প বয়সেই তিনি বিভিন্ন জলসায় গান গাইতে শুরু করেন। প্রধানত ধ্রুপদি ও খেয়াল গানই গাইতেন তখন। ১৯৪৭ সালে উপ মহাদেশ বিভক্ত হওয়ার পর তিনি তার ভাই সহ চলে আসেন পাকিস্তানে। পাঞ্জাবের একটি ছোট শহরে সাইকেলের দোকানে ছোট্ট কাজ নিয়ে শুরু করেন নতুন জিবন। পরে ট্রাকটর ও গারি মেকানিক হিসেবেও কাজ করেন জিবন যাপনের জন্য। কিন্তু সঙ্গিত এর চর্চা কখনই বন্ধ করেননি শত প্রতিকুলতা সত্বেয়। ১৯৫৭ সালে রেডিওতে গান গাওয়ার সুযোগ পান তিনি। প্রথম দিকে শুধু উচ্চাঙ্গ সঙ্গিত গাইতেন কিন্তু এরপর গাইতে শুরু করেন গজল যা তাকে পেীছে দেয় খ্যতি ও সাফল্যের উচ্চ স্তরে। ষাটের দশকের শুরুতে ছায়ছবিতে প্লেব্যাক গাওয়া শুরু করেন তিনি। ছায়াছবিতে গাওয়া তার প্রথম গানটি ছিল ফয়েজ আহমদ ফয়েজ রচিত বিখ্যাত চির সবুজ গজল ”গুল মে রঙ্গ ভরে বাদল বাহা চলে”। ছায়ছবিতে গজল ছাড়াও আধুনিক হিট গান ও গেয়েছেন তিনি। এরমধ্যে রয়েছে যব কোই পেয়ারসে বুলায়গা, মুঝে দিলসে না ভুলানা, ইয়ে তেরে আনা, রাফতা রাফতা ও মেরে এই ধরনের চিরনতুন গান। তৎকালিন পাকিস্তানের প্রায় সকল শিল্পির সঙ্গেই গান গেয়েছেন তিনি। আমাদের দেশের ফেরদেীসি রহমানের সঙ্গেও বিখ্যাত গান রয়েছে তার। বাংলায় ও গান গেয়েছেন তিনি। তার বাংলা গানের একটি ক্যাসেটও বের হয়েছিল। বাংলা ছায়ছবিতে তার গাওয়া হিট গান রযেছে ”ঢাকো যতনা নয়ন দুহাতে”। মেহদি হাসানের একটি বড় কাজ বাহদুর শাহ জাফর,দাগ, হসরত মোহানির মত বিখ্যাত উর্দু গজল রচয়িতাদের গান নতুন করে পরিবেশন করা। শেষ মুঘল সম্রাট বাহদুর শাহ জাফরের রচিত ”বাত করনি মুঝে মুশকিল কাভি অ্যায়সে নাথে” এবং ”না কিসি আঁখ কি নুর হু” গজল দুটি মেহদি হাসানের কণ্ঠে প্রভুত জনপ্রিয়। রেডিও,টেলিভিশন, ক্যাসেট রেকর্ড, প্লে ব্যাক, এবং জলসায় অপ্রতিদনদ্বি শিল্পি ছিলেন মেহদি হাসান। হামদ,নাত ও তিনি গেয়েছেন অনেক। তার গাওয়া নাত ”লওহ ভি তু কলব ভি তু” অত্যন্ত জনপ্রিয়।
আশির দশকের শেষ দিকে বয়স ও অসুস্থতার জন্য প্লেব্যাক এবং জলসা কমিয়ে দেন তিনি। একবিংশ শতকের শুরুতে প্যারালাইসিস এ আক্রান্ত হন তিনি। এরপর নিয়মিত গান বন্ধ করে দিলেও মাঝে মধ্যে টেলিভিশন বা মিক্সড এলবামের জন্য গান গাইতেন তিনি তার মধ্যে দেশাত্ব বোধক গানই প্রধান। অসুস্থ অবস্থায় গান কয়েকদিন ধরে গেয়ে একেকটি গান রেকর্ড করা হতো। এসময় তার গাওয়া একটি গান "ইয়ে ওয়াতান তুমহারি হ্যায়" সম্পর্কে ইউ টিউবে এক ভারতিয় মন্তব্য করেছিলেন যে তিনি একজন ভারতিয় হয়েও এই গানটি শুনে অশ্রু সম্বরন করতে পারেননি। ভারতের কিংবদন্তি লতা মুঙ্গেশকর বলে ছিলেন তার মেহদি হাসানের সাথে গান গাওয়ার ইচ্ছের কথা। সেই আশা তার পুর্ন হয় ২০০৯ সালে । এইচএমভি দুজনের হাওয়া একমাত্র ডুয়েট "তেরে মিলনা বহুত আচ্ছা লাগতা হ্যায়" প্রকাশ করে। সম্ভবত এটাই তার শেষ প্রকাশিত গান।
দির্ঘ অসুস্থতার পর গতকাল ১৩ই জুন ২০১২ সালে করাচির আগা খান হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন তিনি।
পাকিস্তানের সর্বোচ্চ পুরুস্কার প্রাইড অব পারফর্মেন্স ও হিলালে ইমতিয়াজ সহ দেশে বিদেশে অসংখ্য পুরুস্কারে ভুষিত হন তিনি। তার চেয়েও বড় হচ্ছে পরস্পর প্রতিদন্বি দুই রাষ্ট্র ভারত ও পাকিস্তানে তার অসম্ভব জনপ্রিয়তা। সেই সঙ্গে উপমহাদেশে ও এর বাইরেও তার জনপ্রিয়তা অপ্রতিদন্বি। বাংলাদেশে তিনি বেশ কয়েকবার এসেছেন। স্বাধিনতার আগে অনেক জলসায় এসেছেন। স্বাধিনতার পর বিটিভির ২৫ বছর পুর্তি উপলক্ষে একক সংগিতানুষ্ঠানে গান পরিবেশন করেছিলেন তিনি।
তার জিবনের একটি উল্লেখ যোগ্য ঘটনা হচ্ছে নেপালের রাজদরবারে সঙ্গিত পরিবেশনের সময় তার বিখ্যাত জিন্দেগি ম্যায় তো সাভি পেয়ার কিয়া করতে হ্যায় গানটি গাইতে গিয়ে হঠাত খেই হারিয়ে ফেলেন তিনি, এই সময় নেপালের পরোলকগত রাজা বিরেন্দ্র বির বিক্রম শাহদেব নিজেই গেয়ে উঠেন তার পরের লাইন, ম্যায় তো মরকরভি মেরে জান তুঝে চাহউঙ্গা।
আমরা এই কিংবদন্তি শিল্পির রুহ এর মাগফিরাত কামনা করছি।
তিনি একদিন গেয়ে গেছেন "মুঝে দিলসে, না ভুলানা, চাহে রুকে ইয়ে যামানা"। আমরা তাকে ভুলতে পারবনা। কারন তিনি ফিরে আসবেন "কাভি নাগমা বনকে,কাভি বনকে আসুঁ"। কখনও সুর হয়ে কখনও বা অশ্রু।


যখন সাফল্যের শির্ষে


মৃত্যর কয়েকদিন আগে।


ফেরদেীসি রহমানের সাথে