বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১২

আমাদের দেশের কয়েকজন শিকারি ও শিকার কাহিনি।

শিকার কাহিনি পড়তে ভালবাসেন এমন লোকের সংখ্যা কম নয়। শিকার কাহিনির উত্তেজনা এবং থ্রিল ড্যান ব্রাউন কিংবা আয়ান ফ্লেমিং এর লেখা গল্প-উপন্যাস থেকে কম নয়। অন্যদিকে শিকার কাহিনি সত্য ঘটনা। সেই সঙ্গে জ্ঞান বৃদ্ধিও করে। আমাদের দেশে অনেকই শিকারী হিসেবে চিনেন জিম করবেট আর কেনেথ এন্ডারসনকে। এরা শিকার করেছেন যথাক্রমে উত্তর ও দক্ষিন ভারতে। কিন্তু আমাদের বর্তমান বাংলাদেশেই যে একসময় মাত্র ৩০-৪০ বছর আগেও প্রচুর শিকার এর ঘটনা আছে এবং সেগুলিও বিদেশি শিকারিদের কাহিনি থেকে কম আকর্ষনিয় নয়। আমাদের দেশিয় শিকারীদের রোমহর্ষক কাহিনির কয়েকটি বইও আছে। আমাদের দেশের কয়েকজন সাহসি শিকারি ও তাদের শিকার জিবনের কিছু পরিচিতি দেয়ার চেষ্টা করছি।

১.সুন্দরবনের মানুষ খেকো।-পচাব্দি গাজী। অনু লেখনে হুমায়ুন খান।
বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ শিকারি হিসেবে পচাব্দি গাজীর নাম অনেকেই শুনেছেন। পচাব্দি গাজীর আসল নাম আবদুল হামিদ গাজী। সুন্দরবনের প্রান্তে সাতক্ষিরা জেলার শ্যামনগর থানায় তার পৈতৃক বাড়্ী। তারা বংশানুক্রমে শিকারি। তিনি প্রায় ৬০ টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার ও পচিশটি কুমির শিকার করেছেন প্রায় পঞ্চাশ বছর বিস্তৃত তার শিকার জীবনে। এর মধ্যে বিশটির বেশি ছিল ভয়ংকর মানুষখেকো। এই বইটিতে পচাব্দি গাজীর সাতটি মানুষখেকো বাঘ শিকারের কাহিনি রয়েছে। আর একটি অধ্যায় রয়েছে সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রানিদের নিয়ে লেখা এবং অন্য একটি অধ্যায় আছে পচাব্দি গাজীর শিকারি জিবনের কিছু উল্লেখ যোগ্য ঘটনা। যার মধ্যে আছে পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান ও নেপালের রাজা মহেন্দ্রর সাথে তার শিকারের কাহিনী। মানুষখেকো বাঘ শিকারের কাহিনী গুলির মধ্যে গোলখালির বিভিষিকার কাহিনীটি অত্যন্ত মর্মস্পর্শি। এই বাঘটির হাতে নিহত হন পচাব্দি গাজীর ছোটদাদা অর্থাত তার বাবার চাচা ইসমাইল গাজী । তার বাবা মেহের গাজী মারাত্মক আহত হন এবং চাচা নিজামদি গাজী তার এক হাত হারান। তথাপি শেষ পর্যন্ত পচাব্দি গাজী এই বাঘটি শিকার করতে সমর্থ হন। এটি ছিল তার প্রথম মানুষখেকো বাঘ শিকার। পচাব্দি গাজীর শিকার জীবনের ১৯৭১ পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য শিকারের ঘটনাগুলি সংকলিত হয়েছে এই বইয়ে। ১৯৭১ সালের পরেও তিনি দুয়েকটি মানুষখেকো বাঘ শিকার করেছিলেন। এই বইটির অনু লেখক সাংবাদিক-সাহিত্যক হুমায়ুন খান সরাসরি পচাব্দি গাজীর মুখ থেকে শুনে এই বই যের ঘটনাগুলি লেখেছেন। বইটি প্রথম প্রকাশিত হয় সেবা প্রকাশনি থেকে সুলভ সংস্করন হিসেব। এরপর খান ব্রাদার্স থেকেও বইটির হোয়াইট প্রিন্ট সংস্করন প্রকাশিত হয়। বর্তমানে প্রজাপতি প্রকাশনি থেকে বের হওয়া হোয়াইট প্রিন্ট সংস্করন টি পাওয়া যায়। তবে এটিও খুব কম দোকানেই আছে। আগ্রহিরা বাংলা বাজার কিংবা সেগুনবাগিচায় সেবা প্রকাশনির শো-রুম ও অফিসে খোজ নিয়ে দেখতে পারেন। সুন্দরবন এবং এর রাজা রয়েল বেঙ্গল টাইগার সম্পর্কে যারা আগ্রহী তাদের জন্য এই বই অবশ্যপাঠ্য। শহুরে তথাকথিত গবেষক বা প্রানি প্রেমিদের তুলনায় রয়েল বেঙ্গল টাইগার সম্পর্কে সুন্দরবনের প্রান্তে বসবাসকারী পুরুষানুক্রমে শিকারী পচাব্দি গাজী অনেক বেশি জ্ঞান রাখেন। পচাব্দি গাজীর শিকারের খ্যাতি পাকিস্তান আমলেই দেশে ও দেশের বাইরে বিস্তৃত হয়। তাকে প্রথম মিডিয়ায় পরিচিত করে তুলেন সাংবাদিক মরহুম তোহা খান। পাকিস্তান আমলে একবার টেলিভিশনে তার সাক্ষাতকার প্রচারিত হলেও পরে আর কোন টিভি রেকর্ড সম্ভবত তার নাই। বাংলাদেশ আমলে তার নাম লোকে প্রায় বিস্মৃত হয়ে যান। কিছূ তথাকথিত প্রানি প্রেমিকের অদ্ভুদ দাবিকে মান্য করে সরকার বৈধ শিকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে দেন তবে চোরা শিকার বনবিভাগের কর্মকর্তাদের সহয়তায় এখনও জারি আছে। সেই সঙ্গে বিখ্যাত শিকারিরাও হারিয়ে যান মানুষের মন থেকে। একদিকে চোরা শিকার ও বন কেটে লোক বসতি বিস্তারের কারনে সুন্দরবনে বাঘের আবাসস্থল কমে যাচ্ছে। অন্য দিকে একই কারনে খাদ্যের অভাব হওয়ায় বাঘ তার স্বাভাবিক খাদ্য ছেড়ে মানুষ খেকো হয়ে উঠছে। আর এই মানুষখেকো গুলি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আমলাতান্ত্রিক দির্ঘ সুত্রিতার কারনে এগুলিকে মারা যাচ্ছেনা। আর অন্যদিকে মানুষখেকো বাঘের অত্যাচারে বিরক্ত মানুষেরা পিটিয়ে বা বিষ প্রয়োগ করে মেরে ফেলছে কিছু নিরিহ বাঘকেও। পচাব্দি গাজীর কোন উত্তরাধিকারি শিকারি থাকলে হয়তো এভাবে অপ্রয়োজনিয় বাঘ হত্যা এড়ানো যেত।

২.”শিমুলতলার নরখাদক”,”মানিগার নরখাদক”,”জানোয়ারের খাস মহল”।-আবদুর রহমান চেীধুরি।
সুনামগঞ্জের সেলবরষ এর জমিদার পরিবারের সন্তান ছিলেন আবদুর রহমান চেীধুরি। তিনি ৪৯ বেঙ্গলিজ রেজিমেন্ট এ যোগদেন এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। এ সময় তার সহকর্মি ছিলেন জাতিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। পারিবারিক ভাবেই শিকারের দিকে ঝোঁক ছিল তার। তিনি এক ডজনের মত বাঘ শিকার করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি ছিল মানুষখেকো এবং বাকিগুলিও লোকালয়ে উৎপাতকারী বাঘ। এই বাঘ শিকারের ঘটনাগুলি তার নিজের লেখায়ই পঞ্চাশের ও ষাটের দশকে দৈনিক আযাদ, মাহে নও প্রভৃতি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরবর্তিতে মুক্তধারা প্রকাশনি থেকে তার শিকার কাহিনি নিয়ে তিনটি বই ”জানোয়ারের খাস মহল”,”শিমুলতলার নরখাদক”ও ”মানিগার নরখাদক” প্রকাশিত হয়। তিনি সর্বশেষ বাঘ শিকার করেন ১৯৫৫ সালে। তার লেখা অত্যন্ত সুখপাঠ্য। ”শিমুলতলার নরখাদক” বইটিতে একটি মানুষখেকো বাঘের বিবরন দেয়া হয়েছে যে বাঘটি অলেীকিক শক্তির অধিকারি ও অবধ্য বলে পরিচিত হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দক্ষ শিকারি আবদুর রহমান চেীধুরির হাতে বাঘটির মৃত্য হলেও লোকজন সেটাকেও একটি অলেীকিক কান্ডে পর্যবসিত করেছিল যা পড়ে পাঠকরা বেশ কেীতুক অনুভব করবেন। দুঃখ ও দুর্ভাগ্যের কথা হচ্ছে তিনি যে বনে এই বাঘগুলি শিকার করেছিলেন সেই বন তার জিবিতকালেই সম্পুর্ন ধ্বংস হয়ে গেছে। সিলেট ও সুনামগন্ঞ্জের উত্তরে প্রায় পাচশত বর্গমাইল জুড়ে থাকা এই বনাঞ্চল সিলেট ও সুনামগঞ্জকে মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে রক্ষা করত। এই বনাঞ্চল ধ্বংসের কারনে এখন প্রতি বছর সুনামগঞ্জ এলাকায় বন্যা ও ঢলে প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়। ২০০৪ সালে এই পাহাড়ি ঢলের তিব্রতা ও ধ্বংসকারী শক্তি আমি(ব্লগ লেখক) নিজে প্রত্যক্ষ করেছি। তিনি কখনই অযথা কোন বাঘ শিকার করেননি। শুধূমাত্র মানুষখেকো ও লোকালয়ে উৎপাতকারি বাঘ শিকার করেছিলেন। বর্তমানে তাহিরপুর,জামালগঞ্জ ও ধর্মপাশা উপজেলা অঞ্চলে বিস্তৃত লাউর ও মাহরাম পরগনা নামে পরিচিত এই বনাঞ্চল ষাটের দশক থেকেই কাটা শুরু হয় এবং আশির দশকে পুরোপুরি নিশ্চিন্হ হয়ে যায়। আবদুর রহমান চেীধুরির লেখা বইগুলির সম্পদক খলিল চেীধুরি বইগুলির শেষে এই ধ্বংসকান্ডের বিস্তারিত বিবরন দিয়েছেন। একজন শিক্ষিত ও দক্ষ শিকারি আবদুর রহমান চেীধুরি ষাটের দশকের পর আর শিকার করেননি উপযুক্ত পরিবেশ না থাকায়। ১৯৮০ সালে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বইগুলি এখন খুব দুস্প্রাপ্য।
৩.যখন শিকারি ছিলাম-এনায়েত মাওলা
এনায়েত মাওলা একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা। চট্টগ্রাম বন্দরে ১৯৭১ সালে নেী কমান্ডো অপারেশন এ তার বিশেষ অবদান আছে। একসময় কাঠ ও ফার্নিচার শিল্পের সাথে জড়িত ছিলেন। তার আগে চাকরি করতেন রেডিওতে। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে বাঘ ও হাতি সহ বেশ কিছু শিকার করেছেন। কাপ্তাই বাধ তৈরির সময় বাধের পানি ভরার এলাকা থেকে গাছ কেটে নেয়ার দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ১৯৫০ সালে তিনি প্রথম যে চিতাবাঘ টি শিকার করেছিলেন তার কথা এখন হয়তো অনেকে বিশ্বাস করবেননা। কারন তিনি এই বাঘটি শিকার করেছিলেন বর্তমান বিমান বন্দরের কাছে এক জায়গায়। যেখানে এখন বাঘ দুরে থাক কাক ছাড়া আর কিছু নাই। আর সেখানে এখন জঙ্গল গাছপালার নয় ইট-কংক্রিটের। সেসময় তার এই শিকারের কথা রেডিওতে প্রচারিত হয়েছিল এবং পত্রিকাতেও এসেছিল। আরেকটি বাঘ শিকারের কাহিনীও আমাদের মত নতুন প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য মনে হবে। কারন এই ঘটনাটি ছিল বর্তমান মিরপুরে। এনায়েত মাওলার এই বইটির "লেখকের কথা" অধ্যায়ে এই ঘটনা দুটি আছে। তিনি বাংলাদেশের প্রধান শিকারের এলাকা সুন্দরবন,পুর্ব সিলেট এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে শিকার করেছেন। তার বইটিতে সিলেটের শিকার নিয়ে চারটি,চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিকার নিয়ে চারটি এবং সুন্দরবনের দুটি কাহিনী আছে। শিকার ছাড়াও এখানে পার্বত্য চট্টগ্রামের গহিন অরন্য থেকে কাঠ আহরন সহ বিভিন্ন ঘটনা ও স্থান পেয়েছে। এর মধ্যে একটি উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে শঙ্খ নদীর উজানের দিকে তার অভিযানের ঘটনা। তার বইটিতে বর্নিত এলাকাগুলির মধ্যে শঙ্খ নদির উজানের যে বর্ননা তিনি দিয়েছেন এখনও অনেকটা তা অটুট আছে। সুন্দরবন ছাড়া অন্যান্য অঞ্চলে এখন আর বেশি বন-জঙ্গল নেই। রত্না ও সাগরনাল চা বাগানের যে এলাকায় শিকারের কথা তিনি লিখেছেন তার কাছেই অবস্থিত মাধবকুন্ড এখন বিভিন্ন টুরিস্ট স্পট ও লোক বসতি তৈরি হয়ে আগের বিস্তৃত বন আর নাই। এই বইটির আরেকটি বিশেষত্ব দুটি হাতি শিকারের কাহিনী। আমেরকিান জেনারেল ভ্যান ফ্লিট এর শিকার করা যে বাঘটির কথা আছে সেটাই সিলেট অঞ্চলের রেকর্ড করা শেষ বাঘ অর্থাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যাওয়ার রেকর্ড। এরপর সিলেটে আর বাঘ দেখা যায়নি। চট্টগ্রামের শেষ রয়েল বেঙ্গল টাইগার দেখা যাওয়ার রেকর্ড আছে ১৯৮১ সনের।
বইটির শুরুতে কয়েকটি ছবি আছে লেখকের ও প্রকৃতির যা বইটির আকর্ষন আরো বৃদ্ধি করেছে। বইটি প্রকাশ করেছে সাহিত্য প্রকাশ। এনায়েত মাওলা আরো কিছু শিকার করলেও তার উল্লেখযোগ্য সব শিকার কাহিনিই এই বইটিতে আছে।

৪.চট্টগ্রামের শিকার কাহিনি। এরশাদউল্লাহ খান।
এরশাদউল্লাহ খান বাংলাদেশ ব্যাংক এর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই বইটি চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন শিকারের ঘটনা গুলি সংগ্রহ। লেখক নিজেও একজন শিকারি। বইটির বিশেষত্ব হচ্ছে তুলনামুলক বর্তমান কালের শিকারের ঘটনার বিবরন। তবে বৃটিশ আমলের শিকারের কাহিনিও এতে আছে। আছে চুনতি অভয়ারন্য সম্পর্কে একটি অধ্যায়। খান বাহাদুর কবিরউদ্দিন আহমদ এর লেখা নিজের শিকারের কাহিনী একটি আলাদা অধ্যায় হিসেবে রয়েছে। রয়েছে চট্টগ্রাম অঞ্চলের কয়েকজন বিশিষ্ট শিকারী রশিদুল্লাহ খান, ইসরাইল খান(সরকারি কর্মকর্তা,কবি সুফিয়া কামালের দেওর),চুনতির বিশিষ্ট ব্যাক্তিত্ব হাজি সৈয়দ সাহেব, অধ্যাপক হাবিবুর রহমান(পাকিস্তান ও বাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ছিলেন) সহ কয়েকজন শিকারির অভিজ্ঞতার বিবরন। দক্ষিন চট্টগ্রামের পাহাড়ি অরন্যের বিবরন খুবই আকর্ষনিয় মনে হবে পাঠকের কাছে। জীবন প্রকাশনি হতে প্রকাশিত বইটি আকারে ছোট হলেও চট্টগ্রাম অঞ্চলের শিকার কাহিনী ও পুরনো আমলের প্রধান শিকারিদের সম্পর্কে জানার একমাত্র উৎস এখনও পর্যন্ত। ছোট ছোট শিকার কাহিনি গুলি ছাড়াও চুনতি অভয়ারন্য নিয়ে লিখা অধ্যায়টিতে এ অঞ্চলে পরিবেশ ও পর্যটন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। একদিকে বৈধ শিকারের উপর নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে চোরা শিকার কিভাবে নষ্ট করছে পরিবেশ তার বিবরন দেয়া হয়েছে। আর অপরিকল্পিত বসতি স্থাপনের জন্য খাদ্যাভাবে বন্যপ্রানী কিভাবে বসতিতে এসে ক্ষতি করছে এবং এক পর্যায়ে নিজেও মৃত্যবরন করছে তার কথা আছে এই বইটিতে। তথাকথিক পরিবেশবাদী দের চেয়ে অনেক বেশি যুক্তি সহকারে এই বিষয়গুলির সমাধান নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে এই বইগুলিতে।
৫. বনের স্মৃতি –আলী আকবর কোরেশী।
এটি ঠিক শিকার কাহিনী নয়। লেখক বনবিভাগের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন। পাকিস্তান ফরেস্ট ইন্সটিটিউট থেকে ফরেষ্ট্রিতে গ্রাজুয়েট আলী আকবর কোরেশী ১৯৬০ সালে বনবিভাগে রেঞ্জার হিসেবে যোগ দেন। চট্টগ্রাম,মধুপুর গড়,সিলেট এবং সুন্দরবন এলাকায় তার দায়িত্ব পালনের সময় বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য ঘটনÍ স্মৃতি নিয়ে লেখা এই বইটি বেশ আকর্ষনিয়। দায়িত্ব পালনের সময় করা ছোট ছোট শিকার এবং প্রানী ধরার কাহিনি রয়েছে বিভিন্ন অধ্যায়ে। শিকারী পচাব্দি গাজীর সাথে লেখকের একটি শিকার কাহিনিও এতে অন্তর্ভুক্ত আছে। পোষা হরিনের আক্রমনে লেখকের ছোট ভাইর আহত হওয়া ও পরে মৃত্যর করুন কাহিনী খুবই মর্মস্পর্শি । নিজের জিবনের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা নিয়ে লিখা আলী আকবর কোরেশীর এই গ্রন্থটি প্রকাশ করেছে সাহিত্য প্রকাশ।
 

বিজয়ি বাংলাদেশ। বিজয়ি ক্রিকেট।

ক্রিকেট ইজ এ গেইম অফ গ্লোরিয়াস আনসারটেইনিটি" অর্থাত "গেীরবময় অনিশ্চয়তার খেলা ক্রিকেট"।
আজকের খেলায় যেনো সেই কথাই আবার প্রমানিত হলো। এরকম প্রতিদন্বিতাপুর্ন ম্যাচ খূব কমই হয়েছে। যখন ১৬৭ রানে অষ্টম উইকেট চলে গেলো অনেকেই খেলা সম্পর্কে উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছিলেন। আবার একজন মনে করিয়ে দিলেন ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে ওয়েষ্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তানের খেলার কথা যেটা ওয়েস্ট ইন্ডিজ শেষ উইকেটএ ৫৪ রান করে জিতেছিল। আর তার পর থেকেই শুরু হলো বাংলাদেশের ফিরে আসা। অভিনন্দন সফিউল ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদকে। বিশেষ করে সাকিব যখন আউট হয়েছিল তখন অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়ে ছিলেন। তথাপি আমাদের দুই টেল এন্ডার দেখালেন চেষ্টা করলেই বিজয় অর্জিত হয়। সেই সঙ্গে ইমরুল ও তামিমকেও অভিনন্দন। এই বিজয়ের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তারাই। সাকিব ও মুশফিক এর আউট দুটির ক্ষেত্রে বোলার এর কৃতিত্ব বেশ।ইমরুল কায়েস এর রানআউটটি ছাড়া বড় বেশি কোন ভূল শট না খেলেনি বাংলাদেশ।
আর আজকে প্রথমেই ইংল্যান্ড এর প্রথম ব্যাটসম্যান প্রায়োর যেভাবে আউট হলেন তাতেই বোঝা যায় প্রথম থেকেই তেমন বিজয়ের জন্য আত্মপ্রত্যয়ি ছিল বাংলাদেশ। আপিল করার পরও স্ট্যাম্প তুলে নেয়ার কথা কম উইকেট রক্ষকেরই মনে থাকে। উইকেট হারানর পরেও সাহস করে শেষ দুই ব্যাটসম্যান যেভাবে খেললেন তাই বিজয়ের পথে নিয়ে গেছে বাংলাদেশের পতাকা।

চমৎকার এই ম্যাচটি বিজয়ের জন্য অভিনন্দন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। অভিনন্দন ইংল্যান্ডকেও একটি উপভোগ্য ম্যাচ উপহার দেয়ার জন্য।
চট্টগ্রাম সবসময়ই বাংলাদেশের জন্য লাকি গ্রাউন্ড বলে বিবেচিত। বাংলাদেশের বিশ্বকাপে আরো ভাল করুক আসুন এখন আমরা সবাই এই দোয়া করি।

সবকিছুর পরে বিজয়ি ক্রিকেট।

বিঃদ্রঃ কারো হাতে সময় থাকলে বিভিন্ন টেলিভিশনের বিশেষজ্ঞ ( বিশেষভাবে অজ্ঞ)গন আজ আঁতেলিয় ইংরেজিতে কি মন্তব্য করেন তার সংক্ষিপ্ত বিবরন দিলে ভাল হয়।

একজন নাজমুদ্দিন আরবাকান।একটি ফিনিক্স।

নাজমুদ্দিন আরবাকান এর ইন্তেকালের সাথে সাথে তুরুস্কের এবং ইসলামের ইতিহাসের এক যুগের অবসান হলো। যে যুগে ইসলাম ধ্বংস ও বিকৃতির অবস্থা থেকে পুনরায় বিজয়ির আসনে অভিষিক্ত হয়েছে।
নাজমুদ্দিন আরবাকানের জন্ম ১৯২৬ সালে। এর দুবছর আগেই তুরুস্ককে আধুনিক রাষ্ট্রে পরিনিত করার উদ্দেশ্যে কামাল আতাতুর্ক অবলুপ্ত করেছেন খলিফা ও সুলতানের পদ এবং দেশকে করেছেন ধর্মহিন। কৃষ্ন সাগরের তিরে সিনোপ শহরে জন্ম নেন আরবাকান। পিতা মুহাম্মদ সাবরী ছিলেন একজন বিচারক। দরিদ্র না হলেও সাধারত তবে অভিজাত বংশের সন্তান তিনি। ইস্তাম্বুলের ভাল স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ পান তিনি। ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং এ গ্র্যাজুয়েট হন তিনি এরপর। এখানে তার ফলাফল ছিল জিপিএ ৪.০০ এর মধ্যে ৪.০০। এর পর জার্মানির রাইনল্যান্ড এর আর ডাব্লিউ টি এইচ, আচেন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই বিষয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রথমে ইস্তাম্বুল টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়েই প্রভাষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। আরবাকান তার শিক্ষা জীবন অতিবাহিত করেন এমন এক সময় যখন কামাল আতাতুর্ক ধর্মনিরপেক্ষতার ও জাতিয়তাবাদের নামে তুরুস্ককে ধর্মহিন করার সমস্ত ব্যবস্থা নিয়েছিলেন যার মধ্যে তুর্কি ভাষায় আযান দেয়া ও ছিল। আর তার এই কাজগুলির প্রধান লক্ষ ছিল তৎকালিন ছাত্র ও যুবক শ্রেনী। এর মাঝে শিক্ষা লাভ করেও আরবাকান হয়ে উঠেন অনন্য। ১৯৬৫ সালে অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেন আরবাকান। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত থাকার সময় তিনি কয়েকটি গবেষনা ও ডিজাইন এর কাজ করেন যার মধ্যে জার্মান ট্যাংক লেপার্ড ১ অন্যতম। নাজমুদ্দিন আরবাকান এই ট্যাংক ডিজাইন প্রকল্পের প্রধান ছিলেন এবং এই ট্যাংক এবং এর উপর ভিত্তি করে তৈরি ট্যাংক লেপার্ড ২ এখনও জার্মানি, তুরুস্ক সহ ইউরোপিয় দেশগুলির সেনা বাহিনীতে ব্যবহৃত প্রধান ট্যাংক। ১৯৬৯ সালে আরবাকান বিশ্ববিদ্যালয় ত্যাগ করেন এবং এবং একই বছর তুরুস্কের ঐতিহাসিক নগরী কুনিয়া থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় তিনি প্রকাশ করেন একটি ম্যানিফেষ্টো, ”মিল্লি গুরুস” বা জাতিয় দৃষ্টি নামে। এই নামের সংগঠন ও গড়ে তোলেন তিনি যা পরবর্তিতে রাজনৈতিক দলে পরিনিত হয়। ১৯৭২ সালে ”মিল্লি সালামত” বা ”ন্যাশনাল স্যালভেশন পার্টি” নামে আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন আরবাকান। তুরুস্কের আইনগত কারনে সরাসরি ইসলামের কথা বলা সম্ভব না হলেও তার দল সবসময় ইসলামের পুনরজ্জিবন এবং ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে ধর্ম বিরোধিতার বিপক্ষে বলে আসছিল। ”মিল্লি সালামত" পার্টি ১৯৭৩ সালের তুরুস্কের জাতিয় নির্বাচনে ১২ শতাংশেরও অধিক ভোট পায়। ধর্মহিনতায় আচ্ছন্ন্ তুরুস্কে যা ছিল একটি অভাবনিয় ব্যাপার। এসময় ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী রিপাবলিকান পার্টির সাথে কোয়ালিশন সরকার এ যোগ দেয় এই দল। এসময় তুরুস্ক সাইপ্রাস সংক্রান্ত একটি সমস্যার মোকাবেলা সফলভাবে করতে সমর্থ হয়। ১৯৮০ সালে তুরুস্কে আবার সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখল করে এবং আরবাকান এবং তার দল কে তুরুস্কে রাজনিতীতে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে। ১৯৮৭ সালে আরবাকানের নেতৃত্বে গঠিত হয় রিফাহ পার্টি বা ওয়েলফেয়ার পার্টি ১৯৯০ সালের নির্বাচনে এই দল প্রচুর ভোট লাভ করে এবং প্রধান বিরোধি দল হয়। ১৯৯৫ সালে প্রায় ২২ শতাশং ভোট লাভ করে ওয়েলফেয়ার পার্টি এবং একক সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলেও পার্লামেন্টে সর্ববৃহত রাজনৈতিক দলের মর্যাদা পায়। ১৯৯৬ সালে একটি কোয়ালিশন সরকার গঠিত হয় এবং এর প্রধান মন্ত্রি হন নাজমু্িদ্দন আরবাকান। তিনিই আধূনিক তুরুস্কের প্রথম প্রধানমন্ত্রি যিনি কখনও প্রকাশ্যে ইসলাম বিরোধিতা করেননি । প্রধান মন্ত্রি হিেসবে তিনি আরব রাষ্ট্র সমূহ এবং ফিলিস্তিনের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন করেন। তার উদ্যোগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, মালেয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া,ইরান,নাইজেরিয়া,মিসর ও তুরুস্ককে নিয়ে একটি জোট গঠিত হয় ডি-৮ বা ডেভেলপিং ৮ নামে। এই জোট প্রতিষ্ঠার পেছনে তার মুল উদ্দেশ্য ছিল যে কয়েকটি মুসলিম দেশ শিল্পায়ন,প্রযুক্তি,দক্ষ জনশক্তি এবং গনতন্ত্রের দিক দিয়ে এগিয়ে তাদের পরস্পরের সহযোগিতা, বিশেষত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ও বানিজ্য বৃদ্ধি করা। উল্লেখ্য এই সময় তুরুস্কের প্রেসিডেন্ট সুলায়মান ডেমিরেল বাংলাদেশ সফর করেছিলেন। কিন্তু তার এই উদ্যোগ তুরুস্কের ধর্মনিরপেক্ষতাবাদী সেনাবাহিনী ও তথাকথিত সাংবিধানিক আদালতের পছন্দ হয়নি। সামরিক বাহিনী প্রধান উদ্যোগ নিয়ে সেসময় প্রধান দুটি বিরোধি দলের মধ্যে একটি সমঝোতা করে এবং মাসউদ ইলমাজ তুরুস্কের প্রধান মন্ত্রি হন। প্রধানমন্ত্রির পদ থেকে অবসর নেয়ার পর তার দল ওয়েলফেয়ার পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয় এবং তাকেও তুরুস্কের রাজনিতিতে নিষিদ্ধ করা হয়। এরপর ওয়েলফেয়ার পার্টির সদস্যরা গঠন করেন "ভার্চু পার্টি" নামে আরেকটি রাজনৈতিক দল। ভার্চু পার্টি পরবর্তি সংসদ নির্বাচনে বেশ ভাল ফল করে। এই পার্টি থেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মার্ভ কাভাকচি যিনি মাথায় কাপর দিয়ে তরুস্কের সংসদে প্রবেশের অপরাধে সংসদ সদস্য পদ হারান এবং পরে দেশ থেকে নির্বাসিত হতে বাধ্য হন। ২০০১ সালে তরুস্কের সাংবিধানিক আদালত ভার্চূ পার্টিকেও নিষিদ্ধ করে। এরপর ভার্চু পার্টির সদস্য রা দুই ভাগ হয়ে যান। ভার্চু পার্টিে নেতৃত্বে থাকা সদস্যরা গঠন করেন ফেলিসিটি পার্টি এবং অপেক্ষাকৃত তরুন দল গঠন করে জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। প্রত্যক্ষ রাজনিতিতে নিষিদ্ধ হলেও ভার্চু পার্টি ও ফেলিসিটি পার্টির শুরু থেকেই এই দলের তাত্বিক গুরুর স্থানে ছিলেন তিনি। তার উপর নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হলে তিনি ফেলিসিটি পার্টিতে যোগ দেন। কিন্তু একসময় তার অনুসারি তরুনদের গঠিত জাস্টিস এন্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি নির্বাচনে এগিয়ে যায়। ২০০৭ সালের নির্বাচনে এই পার্টি ৪৬ শতাংশ ভোট পায় যা তরুস্কের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। নাজমুদ্দিন আরবাকান এই দলের সাথে জড়িত না থাকলেও এই দলের নেতৃবৃন্দ তার হাতেই গড়া এবং তারা তাকে শ্রদ্ধা করেন। তুরুস্কে বর্তমানে যে সংস্কার হচ্ছে এবং সামরিক বাহিনীর আধিপত্য কমিয়ে প্রকৃত গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ইসলাম পুনপৃতিষ্ঠিত হচ্ছে সে জন্য আরবাকানের অবদান অপরিসীম। নাজমুদ্দিন আরবাকান সম্পুর্ন রুপে ইসলামি বিরোধি পরিবেশে শিক্ষা লাভ করেও স্রোতের বিপরিতে নিজের ঐতিহ্য এবং ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন হন। আরবাকান তার রাজনিতি কেবলমাত্র কথায় আর রাজনিতির ময়দানে সীমাবদ্ধ না রেখে কফি হাউজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত ছড়িয়ে দিয়েছেন। অর্থনৈতিক স্বাধিনতা এবং প্রযুক্তির উন্মেষযে প্রকৃত স্বাধিনাতার জন্য অত্যন্ত জরুরি তা প্রকেীশলি আরবাকান ভালভাবে জানতেন। ডি-৮ গঠনের মধ্যে দিয়ে তার মুসলিম বিশ্বের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ইচ্ছা বোঝা যায়।

সম্পুর্ন বৈরি পরিবেশে থেকেও কোন রুপ সংঘাতে না গিয়েও কিভাবে ধৈর্য ও কেীশল অবলম্বন করে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করা যায় তা আরবকান আমাদের দেখিয়ে গেলেন। গ্রীক উপকথার ফিনিক্স পাখির মত যতবার তাকে ধ্বংশ করা হয়েছে ছাই থেকে পুনরায় তিনি ফিরে এসেছেন আর বিজয়ি হয়েছেন।

আমরা সবাই তার রুহ এর মাগফিরাত কামনা করছি।

বিঃদ্রঃ তুরুস্কের নির্বাচন ব্যবস্থা আমাদের থেকে ভিন্ন। সেখানা ভোটাররা প্রার্থিকে নয় বরং রাজনৈতিক দল সমূহকে ভোট দেয়। প্রাপ্ত ভোটের হার অনুসারে দলগুলি পার্লামেন্টে আসন লাভ করে।

মিসরী মেয়ের হাসি।

মিস্টি ধারাল মিছরির ছুরি মিসরী মেয়ের হাসি
হাঁসা পাথরের কুচিসম দাঁত,সব যেন আজ বাসি।

মিসরের স্বাধিনতা আন্দোলনের প্রধান নেতা সাদ জগলুল পাশার ইন্তেকালে জাতিয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার অনুভুতিকে প্রকাশ করে ছিলেন এইভাবেই। আজকে একটু অন্যভাবে হলেও এই চরনদুটিই মনে পড়ছে। সেদিন জাতিয় কবি মিসরের দুঃখে এই চরনদুটি লিখেছিলেন। আজকে মিসরের আনন্দেই যেন মিসরী মেয়ের হাসি টা বাসি মনে হচ্ছে।
মিসরের ইতিহাস আর পৃথিবীর ইতিহাস যেন সমসাময়িক। পৃথিবীর প্রাচিনতম সভ্যতার নির্দশনগুলি পাওয়া গেছে মিসরেই। পৃথিবীর সকল ধর্ম গ্রন্থেই মিসরের নাম এসেছে বিভিন্ন প্রসঙ্গে। অসংখ্য নবী-রাসূল এর জন্ম ও কর্ম ক্ষেত্র মিসর। আবার ফেরাউনের মত খোদাদ্রোহিদের দেশও মিশর।
৬৪০ খ্রিষ্টাব্দে আমর ইবনুল আস (রাঃ) এর নেতৃত্বে মাত্র চার হাজার মুজাহিদ বিশাল রোমক বাহিনীকে পরাজিত করে মিসরে ইসলামের দাওয়াত পেীছানোর পর থেকে এখনও পর্যন্ত মিসর মুসলিম সভ্যতার অন্যতম নির্দশন হিসেবে বিবেচিত। গাজী সালাউদ্দিন এর স্মৃতি বিজরিত মিসর থেকে জন্ম নিয়েছেন অসংখ মুসলিম বীর,আলেম,বিজ্ঞানী।
১৮০০ সালে মিসরের ক্ষমতায় আসেন আলবেনিয় বংশদ্ভুত মুহাম্মদ আলি। নামে মাত্র তুর্কি খলিফার আনুগত্য প্রকাশ করে স্বাধিন ভাবে মিসরে নতুন সাম্রাজ্য স্থাপন করেন। তিনি একজন যোগ্য শাসক হলেও মুসলিম সভ্যতার পতনের সময় তার উত্তর আধিকারীরাও ছিলেন অযোগ্য। ১৮৮২ সাল থেকেই মিসর একরকম বৃটিশ ও ফরাসি দ্বৈত নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। এর মধ্যে ১৮৬৯ সালে চালু হয় সুয়েজ খাল। যা এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে নেী দুরত্ব কমিয়ে দেয় অনেকখানি যা ইউরোপিয় সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলিকে তাদের এশিয়ার উপনিবেশগুলি থেকে সম্পদ লুট ও নিয়ন্ত্রন করা সহজ করে তোলে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে মিসর সরাসরি বৃটিশ নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। তবে নামমাত্র সুলতানের পদ বজায় থাকে। যুদ্ধ শেষে মিসরের ষ্বাধিনতা আন্দোলন তিব্র হয়ে উঠে সাদ জগলুল পাশার নেতৃত্বে। এ অবস্থায় ১৯২২ সালে বৃটেন মিশরকে সল্প স্বাধিনতা দেয়। ১৯২৪ সালে সাদ জগুলল পাশা সল্প সময়ের জন্য প্রধান মন্ত্রি হলে মিসরের পুর্ন স্বাধিনতার চেষ্টা শুরু করলে তাকে পদচুত্য করা হয়। মিসর ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বৃটিশ নিয়ন্ত্রনে সামান্য স্বাধিনতা বজায় রাখে। এর মধ্যে ১৯৩৯ সালে শুরু হয় দ্বিতিয় মহাযুদ্ধ। মিসর দ্বিতিয় মহাযুদ্ধের কয়েকটি ভয়ংকর যুদ্ধের ক্ষেত্র। যুদ্ধের প্রয়োজনে বৃটিম সরকার মিসরের একটি সশস্ত্র বাহিনী গঠন করতে বাধ্য হয়। কিন্তু এই সশন্ত্র বাহিনীর সদস্যরা অনেক্ই হয়ে উঠেন জাতিয়তাবোধে উদ্ভুদ্ধ। এর আগে ১৯২৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় ইখওয়ান আল মুসলিমিন বা মুসলিম ব্রাদারহূড। ইসলামি আদর্শে জাতিয়তাবোধ ও স্বাধিনতার সংগ্রামে উদ্ভুদ্ধ তরুনরা হাসান আল বান্নার নেতৃত্বে সংগঠিত হয় ইখওয়ান আল মুসলিমিনে। এদিকে সেনাবাহিনীতে কর্মরত একদল অফিসার যারা নিজেদেরকে ফ্রি অফিসার্স নামে অভিহিত করতেন তারা মিসরের রাজতন্ত্র উচ্ছেদ এবং পুর্ন স্বাধিনতার জন্য সংগ্রামের প্রস্তুতি নেন। এই দলের ম্যেধ ছিল মিশ্র মানসিকতার মানুষ। কেউ কেউ ছিলেন ইসলামি আদর্শে উদ্ভদ্ধ কেউবা জাতিয়তাবাদি আধুনিক কেউ আবার স্রেফ সুযোগ সন্ধানি। ১৯৫৩ সালে ফ্রি অফিসার রা জেনারেল মুহাম্মদ নগিবের নেতৃত্বে মিসরের পুর্ন স্বাধিনতা ঘোষনা করে এবং মিসরের শেষ রাজা ফারুককে নির্বাসন দেয়। নগিব সাময়িকভাবে একটি সরকার গঠন করেন। ইখওয়ানুল মুসলিমিন সহ অন্যান্য স্বাধিনতাকামী রাজনৈতিক শক্তি সমর্থন দেয় তাকে। কিন্তু সুযোগ সন্ধানি জামাল আবদুল নাসের ১৯৫৪ সালে নগিব কে ক্ষমতাচুত্য ও গৃহবন্দি করেন। এর পর জামাল নাসের প্রতিষ্ঠা করেন স্বৈরতান্ত্রিক এক শাসন। ইখওয়ান আল মুসলিমিন সহ অন্যান্য বিরোধি রাজণৈতিক শক্তিকে উচ্ছেদ ও র্নিমূলে কঠোর ব্যবস্থা নেন। অন্যদিকে মিসর কে গড়ে তুলতে শুরু করেন পাশ্চাত্য স্টাইলে। তার শাসনামলে মিসর হয়ে উঠে প্রাচ্যের সভ্যতা থেকে পাশ্চাত্য অপসংস্কৃতির লিলাভুমি হিসেবে। জামাল নাসের অত্যাচারি এবং স্বৈর শাষক হলেও ছিলেন জাতিয়তাবাদী। ১৯৫৬সালে তিনি সুয়েজখাল জাতিয়করন করেন।১৯৫৬ ও ১৯৬৭ সালে দুটি যুদ্ধে ইসরাইল ও বৃটেন ও ফ্রান্সের সাথে যুদ্ধ করেন। ১৯৭০ সালে জামাল নাসের এর মৃত্যুর পর ক্ষমতায় আসেন তার দির্ঘদিনের সহযোগি আনওয়ার সাদাত। ১৯৭৩ সালে আবার ইসরাইল এর সাথে যুদ্ধে জড়িয়ে পরে মিসর। সিনাই উপদ্বিপ উদ্ধার করতে সমর্থ হওয়ায় তার জনপ্রিয়তাও কিছুটা বৃদ্ধি পায়। আনওয়ার সাদাত আভ্যন্তরিন বিষয়ে কিছূটা নমনিয় ভাব প্রদর্শন করেন। ইখওয়ানঅাল মুসলিমিনের বিরুদ্ধে চলতে থাকা অত্যাচার অনেকটা হ্রাস পায়। কিন্তু সাদাত ইসরাইল কে স্বিকৃতি দিলে এবং ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি সাক্ষরের কারনে আবার জনগনের বিরাগ ভাজন হন্। ১৯৮১ সালে সাদাত এর আকস্মিক মৃত্যু ভাগ্য খুলে দেয় হোসনি মুবারকএর। বিমানবাহিনীর অফিসার হোসনি মুবারক তার পথম জীবন পুরোটাই ছিলেন এক জন ক্যারিয়ার সামরিক ব্যাক্তি। রাজনৈতিক বিষয়ে বিশেষ মনযোগ তার ছিলনা। টেকনিক্যাল পার্সন হিসিবেই তিনি প্রথমে প্রতিরক্ষা মন্ত্রি নিয়োজিত হন এবং পরে সাদাত স্রেফ তার সহকারী হিসেবে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেন তাকে। সাদাত এর আকস্মিক মৃত্যু তাকে মিসরের নতুন ফেরাউন হিসেবে আবির্ভাবের সুযোগ করে দেয়। ১৯৮১ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মিসরে জারি আছে জরুরি অবস্থা। জনগনের মেীলিক অধিকার রয়েছে স্থগিত। হুসনি মুবারক কয়েকবার নামমাত্র নির্বাচন দেন যে সকল নির্বাচনে তিনি ৯০ শতাংশ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। কিন্তু পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতি ও মিসরের অর্থনৈতিক অবষ্থা তার শাসন এর বিরুদ্ধে জনগনকে রাস্তায় নামতে বাধ্য করে। হুসনি মুবারক কয়েকবার পার্লামেন্ট নির্বাচন দেন কিন্তু প্রবল বাধা এবং অত্যাচার সত্বেয় এই নির্বাচনগুলিতে তার বিরোধি দলগুলি বিশেষ করে ইখওয়ান আল মুসলিমিন অনেক আসন লাভ করে। তবে ১৯৫৪ সাল থেকেই ইখওয়ান আল মুসলিমিন রাজণৈতিক দল হিসেবে মিসরে নিষিদ্ধ। এর প্রর্থিরা সতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহন করেন। এদিকে পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে এক সময় সোভিয়েট ইউনিয়নের পরম বন্ধু হুসনি মুবারক মার্কিন ছাতার তলে আশ্রয় গ্রহন করে নিজের ক্ষমতা বজায় রাখার প্রয়াস পান। ইতঃমধ্যে মিসরের প্রতিবেশি তিউনিসিয়ার জনগন বিপ্লবরে মাধ্যমে উচ্ছেদ করে স্বৈরশাসক বেন আলি কে। ২০১১ সালের ২৫ শে জানুয়ারি এই সাফল্যে উদ্ভুদ্ধ মিসরিয় তরুন সমাজ নেমে আসে রাজপথে ষাট বছর ধরে চলতে থাকা স্বৈর শাসন উচ্ছেদ করে জনগনের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে। জনগনের মানসিকতা দেখেই সম্ভবত হুসনি মুবারকের প্রধান খুটি সেনাবাহিনী এই বিপ্লব প্রতিরোধ করতে শক্তি প্রয়োগে সম্মত হয়নি। শেষ পর্যন্ত নানা টালবাহানা করে হুসনি মুবারক ও তার সরকার ১১ ফেব্রুয়ারি পদত্যাগ করলেন সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রীম কমান্ড কাউন্সিল এর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে। জনগন হুসনি মুবারককে হঠানর সাফল্যে আনন্দ-উল্লাসে ফেটে পড়েছে মিসরের আনাচে কানাচে। আর পৃথিবীর সকল মুক্তিকামী মানুষও সেই আনন্দের অংশিদার হয়ে আজকে অভিনন্দন জানাচ্ছে মিসরের বিপ্লবি জনতা কে।

মিসরের ভবিষ্যত এখনও অস্পষ্ট। ক্ষমতা গ্রহনকারী সশস্ত্রবাহিনীর পরবর্তি পদক্ষেপ কি হবে তা এখনও অজানা। নতুন কোন স্বৈরশাসক আবার ক্ষমতায় চেপে বসবে না জনগনের সরকার কায়েম হবে সে প্রশ্নের উত্তর ভবিষ্যতের গর্ভে। তবুও আজকের দিনটি অবশ্যই জনগনের বিজয়ের দিন। সশস্ত্র বাহিনী নিশ্চয় জনগনের মানসিকতা বুঝতে পারছে। নতুন কোন স্বৈরশাসক যদিওবা চেপে বসতে চেষ্টা করে তার মেয়াদ নাসের,সাদাত বা হুসনি মুবারক এর মত দির্ঘ ও কুসুমাস্তির্ন হবেনা সেটা নিশ্চিত। যে জনতা একবার জেগে উঠেছে তাকে ঘুম পাড়ান সহজ নয়।

উপদেষ্টার উপদেশ বা অপদেশ

হানিফ সংকেতের একটি কেীতুক নকশায় দেখেছিলাম চাকরি প্রার্থির উল্টাপাল্টা জবাব আর তোষামোদে বিরক্ত ইন্টারভিউগ্রহিতা শেষ পর্যয়ে চাকরি প্রার্থিকে তার উপদেষ্টার চাকরি দেন। চাকরি প্রার্থি সাথে সাথে তার পায়ে হাত দিয়ে সালাম করেন। এর পর বস তার উপদেষ্টার কাছে প্রথম যে উপদেশ চান তা হচ্ছে," কিভাবে গলাধাক্কা দিয়ে আপনাকে আমি এখান থেকে বের করে দিব"।

উপদেস্টা বা অ্যাডভাইজার পদটি ব্যবসায় ও রাজনৈতিক উভয় ব্যাপারে বহুল প্রচলিত। সরকারের বিভিন্ন ক্ষেত্রেই উপদেষ্টা নিয়োজিত হন। এরা সাধারনত কোন নিয়মিত বেতনভাতা পাননা। বৈঠক বা কোন নিদৃষ্ট বিষয়ে ফাইলে পরামর্শ বা উপদেশ দেন এবং সেই অনুযায়ি ফি পেয়ে থাকেন। তারা সাধারনত মন্ত্রনালয়,বিভাগ কিংবা কোন প্রকল্প অনুসারে নিয়োজিত হন। এর বাইরেও সরকার উচ্চ পর্যায়ে কিছু উপদেষ্টা নিয়োগ করে থাকেন যারা সাধারনত মন্ত্রি সভার সদস্যের পদমর্যাদা ভোগ করে থাকেন কিন্তু মন্ত্রিদের মত সাংবিধানিক অধিকার সমূহ তাদের জন্য প্রযোজ্য হয়না। এক সয় জ্বালানী উপদেষ্টার দ্বায়িত্ব পালনকারী বর্তমানে বন্দি আমারদেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের এক লেখায় একবার পড়েছিলাম উপদেষ্টা হিসেবে দ্বায়িত্ব পালন কতটা কষ্টের। কারন সাংবিধানিক ক্ষমতা নাথাকায় কোন ফাইলে তারা সাইন করতে পারেননা কিন্তু কোন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে থাকলে সেই মন্ত্রনালয় পরিচালনায় তাকে অংশ গ্রহন করতে হয় মন্ত্রি বা প্রতিমন্ত্রিদের মতই। সুতারাং সরকারের মন্ত্রি/প্রতিমন্ত্রি পদমর্যাদায় কর্মরত উপদেষ্টাদের দায়িত্ব কম নয়।
এহেন উপদেষ্টা যদি বলে বসেন শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা হচ্ছেন দেশের শত্রু তবে তার যোগ্যতা সম্পর্কে সন্দেহ হওয়া অতি স্বাভাবিক। যদিও তার নামের আগে যুক্ত আছে ডক্টর শব্দটি।
বানিজ্য বিভাগে এস,এস,সি পরিক্ষার্থি রাও জানে শেয়ারবাজার কি। শেয়ার বাজার থেকে কিভাবে বিভিন্ন কোম্পানি পুঁজি সংগ্রহ করে উৎপাদন ও ব্যবসায় খাটায়। হ্যা এটা সত্যি যে সেকেন্ডারি বাজারে শেয়ার হাত বদলের মাধ্যমে যে অর্থের লেনদেন হয় তা সরাসরি উৎপাদনে নিয়োজিত হয়না। কিন্তু এই লেনদেন কোম্পানি টির পরিচালনাকে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রন করে। যদিও আমাদের দেশে তা বিভিনন্ন কারনে পুরোপুরি সঠিকভাবে হয়না। তবুও এই বিনিয়োগ অবশ্যই জাতিয় অর্থনিতিতে প্রভাব ফেলে। কোম্পানির শেয়ারের মুল্য দিয়ে নির্ধারিত হয় কোম্পানিটির মুল্য। যা তার লাভ ক্ষতি নিরুপনের জ্যন অতি প্রয়োজনিয়। শেয়ার মার্কেট হচ্ছে যে কোন দেশের জাতিয় পুঁজি গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান মাধ্যম। একারনে ইংরেজিতে শেয়ারবাজারের আরেক নাম ক্যাপিটাল মার্কেট। একারনে প্রতিদিনই বিশ্বের প্রধান সংবাদ মাধ্যম গুলির সংবাদের বড় অংশ জুড়েই থাকে শেয়ারবাজারের খবর। নিয়মিত পত্রিকা পড়েন এমন সকল ব্যাক্তিই জানেন ১৯২৯ সালের দি গ্রেট ডিপ্রেশনের সূচনা হয়েছিল শেয়ার বাজারের পতন থেকেই এবং ২০০৭ সালের বিশ্ব ব্যাপি মন্দার শুরু ও স্টক মার্কেটের পতন থেকে। অর্থাত শেয়ার বাজারের অবস্থা অব্শ্যই অর্থ্নিতির অন্যান্য সূচকের সাথে সম্পর্কিত এবং এর কোন সমস্যা পুরো অর্থনিতিকে প্রভাবিত করে।
এখন সরকারের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ যদি বলে বসেন শেয়ার বাজারের দর পতন নিয়ে সরকারের কোন মাথাব্যাথা নাই তাহলে যে কোন সচেতন ব্যাক্তির মনেই প্রশ্ন জাগতে বাধ্য যে এই ব্ক্তব্য প্রদানকারী আদেী অর্থ্নিতির সম্পর্কে জানেন কিনা। শেয়ার বাজার রেগুলেশন ও তত্বাবধানের দ্বয়িত্ব সরকারের। এখন শেয়ার বাজারের টাকা যাতে সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় তা দেখার দায়িত্ব ও সরকারের। সরকার যদি সময়মত কোন কারনে সময়মত তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় তা হলে সে দায়িত্ব সরকারের। বিশেষজ্ঞ গনের প্রায় ছমাস আগে দেয়া সতর্কবানি তখন আমলে নিলে আর যাই হোক এরকম আকাশপাতাল তফাত হতোনা। অন্য দিকে রাতারাতি সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রনের চেষ্টা করতে গিয়ে পুরো বিষয়টি লেজে গোবরে করে দিয়েছে সরকার। এই অবস্থায় সরকারের কোন দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবক্তিযদি ঢালাও ভাবে বিনিয়োগকারীদের দেশের শত্রু বলে অভিহিত করেন তা হলে সেই ইন্টারভিউ গ্রহনকারীর মত বলতে ইচ্ছে আপনি বরং সরকারকে সেই উপদেশ দিন কিভাবে আপনার মত অযোগ্য উপদেষ্টার হাত থেকে সরকার,দেশ ও জনগন রক্ষা পাবে।

২০,জানুয়ারি ২০১১, শেয়ার বাজারে ব্যাপক দরপতনের পর চট্টগ্রামে বিনিয়োগকারীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভের ভিডিও দেখুন এই লিংকে।
[http://www.youtube.com/watch?v=CwglQEthLAY]

ব্ল্যাক সানডে থেকে ব্ল্যাকহোল মানডে।

পশ্চিম ইউরোপিয় সংস্কৃতিতে মাসের তের তারিখ শুক্রবার পড়াকে খুব অশুভ বলে গন্য করা হয়। এই রকম দিন কে বলা হয় ব্ল্যাক ফ্রাইডে। এর উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন মতবাদ আছে। যেমন কেউ বলেন এই দিনেই যিশুখ্রিষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছিল তাই এই দিন অশুভ আবার কোন কোন ঐতিহাসিকের মতে এই দিন টেম্পলার নাইট দের বিরুদ্ধে সারা ইউরোপ ব্যাপি অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। যদিও এই দিনটি সম্পর্কে অশুভ মনে করার বিশ্বাস খৃষ্টপুর্ব সময় থেকে চলে আসছে বলে বেশিরভাগ পন্ডিত ব্যাক্তিই একমত।
অর্থনিতির ক্ষেত্রে ১৯২৯ সালের অক্টোবর মাসে নিউইয়র্ক স্টক এক্সচেন্জ এর বিশাল দর পতন কে বলা হয় ব্ল্যাক ফ্রাইডে। এই দরপতন এর দিন থেকেই শুরু হয় দি গ্রেট ডিপ্রেশন বা বিশ্বব্যাপি অর্থনৈতিক মন্দা যা স্থায়ি হয় দ্বিতিয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ পর্যন্ত। ২৯ শে অক্টোবর ১৯২৯ সাল ছিল প্রকৃত পক্ষে বৃহস্পতি বার। তবে তখন এত দ্রুত তথ্য পরিবহনের ব্যবস্থা ছিলনা বিধায় এই বিশাল দর পতনের খবর সবখানে পেীছতে সময় লেগে যায় যার কারনে এবং এই দর পতনের ভয়াবহতার জন্য এদিনটি ব্ল্যাক ফ্রাইডে বলে পরিচিত হয়ে উঠে।

গতকাল ৯ই জানুয়ারি,২০১১ রবিবার কে দৈনিক নয়াদিগন্ত শিরোনাম করেছে পুজিবাজারের ব্ল্যাক সানডে হিসেবে। কারন সারা দিনের ট্রেড শেষে মুল্য সুচক বা ইনডেক্স কমেছে দেশের উভয় স্টক এক্সচেন্জ এ ছয় শত পয়েন্ট এরও বেশি। যা শতকরা হিসেবে যথাক্রমে ৭.৭৫ ও ৬.৩৪ শতাংশ ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেন্জে এ। গতকাল বাজার প্রথম একঘন্টায় পড়ে প্রায় ২০০ পয়েন্ট। মাঝখানে সাময়িকভাবে উর্ধগামি হলেও দিনের শেষে এই মুল্য কমে যায়। আর আজকে ১০ই জানুয়ারি,২০১১ সোমবার লেনদেন শুরুর প্রথম একঘন্টার মধ্যেই ঢাকা স্টক এক্সচেন্জ এর সূচক কমে যায় ছয়শ পয়েন্ট এরও বেশি। এ অবস্থায় উভয় স্টক এক্সচেন্জ এর লেনদেন বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।
আমাদের শেয়ার বাজারের পরিস্থিতিতে এই দরপতন অপ্রত্যাশিত না হলেও এতটা দরপতন খুবই অস্বাভাবিক। শেয়ার বাজারের বিশেষজ্ঞগন প্রায় ছয়মাস ধরে বলে আসছিলেন এই দর পতনের আশংকার কথা বলে আসছিলেন। বিভিন্ন কারনে দেশে শিল্প বিনিয়োগে স্থুবিরতা এবং ব্যবসায় মন্দা মানুষকে নিয়ে আসছিল শেয়ার বাজারে। এই কারনে আমাদের শেয়ার বাজারগুলিতে বাজার মূলধন বেড়ে যায় অস্বাভাবিকভাবে অন্যদিকে ভাল শেয়ারের সরবরাহ ছিল কম। বিনিয়োগে স্থবিরতার জন্য ব্যাংকগুলি তাদের আমানতের বিশাল অংশ বিনিয়োগ করে শেয়ার বাজারে। কনভেনশনাল ব্যাংকগুলির জন্য আমানত অর্থ অব্যবহৃত অবস্থায় ফেলে রাখা অসম্ভব। কারন তারা আমানতের উপর নিদৃষ্ট হারে সুদ দিতে বাধ্য। তাই তারা বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে শেয়ার বাজারকে বেছেনিয়েছিল। অন্য দিকে ব্যাংক থেকে এবং নিজস্ব উদ্যোগে বিনিয়োগকারীরা শিল্প স্থাপন করতে গিয়ে বিদ্যুত এবং গ্যাস সুবিধা না পেয়ে এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির শিকার হয়ে শিল্প স্থাপন করতে ব্যার্থ হয়ে তাদের মূলধনকে শেয়ার বাজারে নিয়ে আসেন। অন্যদিকে বুকবিল্ডিং বা ডিরেক্ট লিস্টিং পদ্ধতিতে কিছু কোম্পানি অতি উচ্চ মুল্যে তাদের শেয়ার বিক্রি করে টাকা নিয়ে যায় বাজারের বাইরে কিন্তু এই কোম্পানিগুলি শেয়ার বাজারে রয়ে যায় অতি উচ্চ মুল্যায়িত অবস্থায়। শেয়ার বাজারের এই অবস্থার সাথে আবার যুক্ত হয়েছে তথাকথিত মাল্টি লেভেল মার্কেটিং বা ইউনিপেটু জাতিয় কোম্পানি সমূহের বিস্তার। এই কোম্পানিগুলির অতি সল্প সময়ে(কোন ক্ষেত্রে তিনমাসের মধ্যে)টাকা দিগুন করার অফারের প্রেক্ষিতে অনেকেই এখন শেয়ার বাজারে নাএসে বিনিয়োগ করছেন এই কোম্পানি গুলিতে ফলে কমে যাচ্ছে বাজারের শেয়ার ক্রয়ের ক্ষমতা।
সব কিছু মিলিয়ে আমাদের শেয়ার বাজারে সৃষ্টি হয় একটি বুদবুদ এর যার বিস্ফোরন মাত্র দুদিনে পথে বসিয়ে দিয়েছে অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীতে।
গত কয়েকদিন থেকেই সূচক নিন্ম মুখি হলেও গতকালের মত বিশাল অংকের পতন এবং আজকের এক ঘন্টায় সমান পতন আমাদের স্টক মার্কেটের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আরোবিমুখ করে তুলছে।
গত কয়েকমাস ধরেই বাজার বিশেষজ্ঞরা এই পতন ঠেকানো এবং অতিমুল্যায়িত বাজারকে নিয়ন্ত্রন করার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এসইসি ও সরকারকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু উভয় কর্তপক্ষই আমলাতান্ত্রিক গদাই লস্করি চালে নিচ্ছিলেন তাদের পদক্ষেপ। অন্য দিকে শেয়ার বাজারে ব্যাংক সমূহের বিনিয়োগ নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকএর হঠাৎ করে বেশি নিয়ন্ত্রন আরোপ এবং বিভিন্ন পদক্ষেপ আমাদের অস্থির শেয়ার বাজারকে আরো অস্থিতিশিল করে তোলে। রাতারাতি ব্যাংকগুলির বিনিয়োগ ঝুঁকি হ্রাসের চেষ্টা ঝুঁকিতে ফেলে দেয় লক্ষলক্ষ বিনিয়োগকারীদের। অথচ ব্যাংক সমূহের শেয়ার বাজারের অতিরিক্ত বিনিয়োগের বিষয়টি প্রায় দেড় বছর আগে থেকে আলোচিত হলেও বাংলাদেশ ব্যাংক এতদিন কোন পদক্ষেপ নেয়নি।
সরকার ও এসইসির বিভিন্ন কার্যকলাপ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের বক্তব্য শুনে মনে হচ্ছে তারা লাঠি দিয়েই শেয়ার বাজারকে নিয়ন্ত্রনে আনতে উৎসাহি। অন্য দিকে এই দর পতনটিতেকস্বাভাবিক নয় বলেই সকল বাজার বিশেষজ্ঞ মন্তব্য করেছেন। গতকালের বিশাল পতনের পর তারা বলেছিলেন মুল্য যথেষ্ট সংশোধন হয়েছে এখন সাময়িকভাবে হলেও বাজার উর্ধগামী হবে। কিন্তু তাদের বক্তব্যকে অসাড় প্রমানিত করে মাত্র এক ঘন্টায় আজকে শেয়ার বাজারের এই পতন। শেয়ার বাজারে অতিমুল্যায়িত শেয়ার অবমুল্যায়নের মাধমে সূচক কমে যাওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কে সকলেই অবহিত ছিলেন। কিন্তু সাধারন বিনিয়োগকারীরা উত্তেজিত হয়েছেন অতি অল্প সময়ে এই পতন দেখে। বিশেষজ্ঞরাও এটা আশা করেননি। তারা ধাপে ধাপে সূচক কমে যওয়ার কথা বলেছিলেন।
আজকে ট্রেড বন্ধ রেখে এসইসি যে সকল সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার খুববেশি কোন প্রভাব শেয়ার বাজারের ফেলবে বলে মনে হয় না। মানুষের মনে এখনও প্রচুর শংকা রয়েছে।

শেয়ার বাজারের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে এই বাজারের গতি প্রকৃতি কোন গানিতিক বা বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষন দিয়ে বের করা সম্ভব নয়। এটি বর্তমানে ব্ল্যাকহোলের মত অবস্থায় চলে এসেছে।
যাতে কেবল কিছূ ঢকে আর বের হতে পারেনা। ব্ল্যাক হোল কোন বৈজ্ঞানিক তত্ব অনুযায়ি চলেনা। আমাদের শেয়ারবাজার ও যেন এখন সেই রকম হয়ে গেছে। আজকের দিনটি যেন আমাদের শেয়ার বাজারকে নিয়ে গেছে একটি ব্ল্যাকহোলে যেখানে কোন প্রতিষ্ঠিত সত্য ও গানিতিক ফর্মুলা কাজ করেনা। অনিশ্চয়তাই যেখানে সত্য।
আজকের দিনটিকে আমরা ব্ল্যাকহোল মানডে বলে অভিহিত করতে পারি।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষন বিমান পিটি-৬।

অন্য একটি ব্লগে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ঘটে যাওয়া সাম্প্রতিক দুর্ঘটনা সম্পর্কে একটি চমৎকার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। সেটা যারা পড়েছেন তাদের বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষন বিমান পিটি-৬ সম্পর্কে কিছু জানার ইচ্ছা থাকতে পারে। তথ্যগুলি প্রধানত ইন্টারনেট এবং বিমান বাহিনীতে কর্মরত কয়েকজনের সেীজন্যে পাওয়া।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে ব্যবহত ট্রেনিং বিমান ও হেলিকপ্টার গুলি হচ্ছে।
১. পিটি-৬(সিজে-৬)। প্রাইমারি প্রপেলার ট্রেইনার।
২.টি-৩৭। বেসিক জেট ট্রেইনার।
৩.এল-৩৯। অ্যাডভান্স জেট ট্রেইনার।
৪.বেল-২০৬ হেলিকপটার।

পিটি-৬ বা প্রাইমারি ট্রেইনার-৬ একটি পিস্টন ইঞ্জিন চালিত প্রশিক্ষন বিমান। এই বিমানটি মুলত সোভিয়েট ডিজাইন অনুসারে চিনের তৈরি। চিনা বিমান বাহিনীতে এই বিমান প্রথম ব্যবহৃত হয় ১৯৬০ সালে। চিনা বিমান বাহিনীতে এটি সিজে-৬ নামে পরিচিত। ১৯৬০ সাল থেকে শুরু করে ১৯৯৫-২০০০ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচহাজার সিজে-৬ বিমান তৈরি হয়েছে। তবে অন্যান্য বিমানের তুলনায় এই বিমানটির মডেল আপগ্রেড হয়েছে খুবই কম। তথাপি বিমানের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত সফল প্রশিক্ষন বিমান হিসেবে এই বিমানটি অনেক উপরে স্থান করে নিয়েছে। চিনা বিমান বাহিনী ছিল এর প্রথম থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত প্রধান ব্যবহারকারী। ১৯৬৫ সালে চিন এই বিমানের একটি মডেল সিজে-৬ এ তৈরি করে। এই মডেলটি বিদেশে রপ্তানী করা হয় পিটি-৬ ও পিটি-৬ এ নামে। তৎকালিন সময়ে উন্নত টেকনলজি এবং সল্প মুল্য ও উড্ডয়ন ব্যায় এবং সহজ রক্ষনাবেক্ষনের সুবিধার জন্য এই বিমানটি খুব দ্রুতই জনপ্রিয় হয়। চিনের পর মধ্যপ্রাচ্য,উত্তর কোরিয়া, আফ্রিকা ও পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি বিমান বাহিনী তাদের প্রধান প্রশিক্ষন বিমান হিসেবে এই বিমানটিকে গ্রহন করে। তবে বর্তমানে চিন ছাড়া আর যে কয়েকটি দেশ এই বিমানটি ব্যবহার করছে সেগুলি হচ্ছে বাংলাদেশ,আলবেনিয়া,উত্তর কোরিয়া,ইকুয়েডর,শ্রীলংকা এবং লাওস।

পিটি-৬ একটিএক ইঞ্জিনের দুই আসন বিশিষ্ট বিমান। বৈমানিক এর আসন বা ককপিট দুটি ট্যানডেম বা একটির পিছনে একটি ভাবে থাকে। উভয় ককপিট থেকেই বিমানটির পুর্ন নিয়ন্ত্রন করা যায়। সাধারনত সামনের দিকের ককপিটে প্রশিক্ষনার্থি এবং পিছনের দিকের ককপিটে প্রশিক্ষক বসেন। এটি মাত্র ২৮ফুট লম্বা এবং এর উইং স্প্যান বা ডানার মোট দৈর্ঘ ৩৩ফুট ৬ ইঞ্চি। সর্বোচ্চ গতি ১৬০ নটিক্যাল মাইল প্রতি ঘন্টায়। এর একটি ইঞ্জিন ও প্রপেলার সামনের দিকে অবস্থিত। সাধারনভাবে কোন অস্ত্র বহন করেনা তবে মেশিনগান ও বোমা বহন করতে পারে। প্রশিক্ষন ছাড়াও পর্যবেক্ষন,এরিয়াল ফোটগ্রাফি ও এরোবেটিকস বা বিমান নিয়ে বিভিন্ন কৈীশল প্রদর্শনের জন্যও এই বিমানটি ব্যবহত হয়। পিটি-৬ বিমান তৈরি হয় প্রধানত চিনের নানচাং এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাক্টরীতে। তবে লাইসেন্স নিয়ে আরো কয়েকটি দেশ এটি উৎপাদন করত। পিটি-৬ বিমান হিসেবে খুবই হালকা এবং ম্যানুয়ালি একে পরিচালনা করতে হয়। রেডিও ছাড়া আর কোন বিশেষ উল্লেখযোগ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্র এতে নাই। এই বিমানটি সাধারনত ২৮৫ অশ্বশক্তির একটি পিষ্টন ইঞ্জিন ব্যবহার করে। এখানে উল্লেখ যোগ্য বর্তমানে প্রপেলার চালিত বিমানের জন্য ব্যবহত হয় টারবাইন ইঞ্জিন। পিষ্টন ইঞ্জিন এখন বিমান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও খুব কমই ব্যবহত হয়।
আধুনিক না হলেও প্রাথমিক প্রশিক্ষনের জন্য এটি একটি উপযুক্ত বিমান।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে প্রথম এই বিমান যুক্ত হয় ১৯৭৭ সালে। যশোরে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী একাডেমিতে এই বিমান ব্যবহার করা হচ্ছে আজ পর্যণ্ত। বর্তমানে প্রায় ৩০-৪০ টি পিটি-৬ বিমান রয়েছে। এই বিমানগুলি ১১ স্কোয়াড্রনের আওতা ভুক্ত। যশোরের বিমান বাহিনী একাডেমি ছাড়াও বগুড়ায় অবস্থিত ফ্লাইং ইন্সট্রাক্টর ট্রেনিং স্কুল ও এই বিমান ব্যবহার করে থাকে। এই বিমানগুলি ১৯৭৭-১৯৯২ সালের মধ্যে আমদানি করা হয়েছে। অর্থ্াত এই বিমানগুলি কম পক্ষে আঠারো বছরের পুরনো। তবে নিয়মিত ওভারহল করা হলে একটি বিমান ৪০-৫০ বছর পর্যন্ত কার্যকর থাকতে পারে। পিটি-৬ এর ক্ষেত্রে ওভার হলিং সময় হচ্ছে একহাজার উড্ডয়ন ঘন্টা। অর্থাত প্রতি একহাজার ঘন্টা উড্ডয়নের পর এই বিমান গুলি ওভারহলিং এবং কিছু যন্ত্রাংশ পরিবর্তনের দরকার হয়। প্রশিক্ষন কাজে নিয়োজিত থাকায় এই বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর এই বিমানগুলি সবচেয়ে বেশি সময় উড্ডয়ন করে। ওভার হলিং এর জন্য চিনে পাঠাতে এক সময় প্রচুর অর্থ ব্যায় ও সময় নষ্ট হতো । নব্বই এর দশকে এই বিমানগুলি দেশেই ওভারহল করার ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিস্তু দেশের সর্বগ্রাসী দুর্নিতী এই ক্ষেত্রেও প্রবেশকরে। এই বিমানগুলি ওভারহল করার সময় মানসম্পন্ন যন্ত্রাংশ দ্বারা রিপ্লেসমেন্ট না করার অভিযোগ উঠে। পাশাপালি চিন এই বিমানের উৎপাদন বন্ধ করে দেয়ায় প্রয়োজনিয় যন্ত্রাংশের অভাবও দেখা দেয়। এমতবস্থায় এই বিমানগুলি চলাচল ঝুঁকি পুর্ন হয়ে যায়। গত কয়েক বছরে এই বিমানগুলিতে বেশকয়েকটি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
পিটি-৬ বিমানগুলির পরিবর্তে নতুন আধুনিক প্রাইমারি ট্রেইনার ক্রয় করার জন্য ১৯৯০ সাল থেকেই আলোচনা হচ্ছে। জেনস ডিফেন্স উইকলি সহ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুসারে বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পাকিস্তান হতে "এমএফআই-১৭ মুশশাক" বিমান সংগ্রহ করতে যাচ্ছে বলে জানা যায় ২০০০ সালের দিকে। কিন্তু এটি মান সম্পন্ন নয় বলে এই প্রষ্তাব বাতিল করা হয়। যদিও এই বিমানটি এবং এর আপগ্রেডেড ভার্সন "সুপার মুশশাক" পাকিস্তান,সৈীদি আরব সহ বেশ কয়েকটি দেশে ব্যবহত হচ্ছে। এই বিমানটি মুলত সুইডেন কর্তক ডিজাইন করা "সাব সাফারী" বিমানের লাইসেন্সড কপি। সুইডেন কতৃক নির্মিত বিমান কয়েকটি ইউরোপিয় বিমান বাহিনীতে ব্যবহত হচ্ছে। তথাপি কোন কারনে এই বিমানটি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়নি। এ অবস্থায় ইউরোপিয় বা মার্কিন মডেলের বিমান সংগ্রহের চেষ্টা নেয়া হলে ও উচ্চ মুল্য সহ বিভিন্ন কারনে তা এখনও সম্ভব হয়নি।
পিটি-৬ বিমান চিনা বিমান বাহিনী ২০১১ সালের মধ্যেই বাতিল করে দিচ্ছে। তার পরিবর্তে আধুনিক পিটি-৭ বিমান সংযোজিত হচ্ছে তাদের বিমান বাহিনীতে। অন্যদিকে সময়মত নতুন বিমান ক্রয় না করায় বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে ঝুঁকিপুর্ন এই বিমান ব্যবহার করে তাদের অতি গুরুত্বপুর্ন প্রশিক্ষন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। আরো কোন মায়ের কোল খালি হওয়ার আগেই সরকার এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন এটিই আমাদের কামনা।